{{ news.section.title }}
বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর কমলো স্বর্ণের দাম
টানা ঊর্ধ্বগতির পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। আগের লেনদেনের দিনে ২ শতাংশের বেশি বাড়ার পর বুধবার (১৬ জুলাই) স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, যার প্রভাবে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৬টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ৪,০২৮.১৩ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে আগস্ট সরবরাহযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের কমেক্স গোল্ড ফিউচারস ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৩৩.৯০ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। মূল্যস্ফীতি বাড়লে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে-এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আর উচ্চ সুদের পরিবেশ সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা শীতল আসায় স্বর্ণের দাম একপর্যায়ে ৪,১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। তবে পরবর্তীতে বাজারের নজর আবারও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি মূল্য এবং সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার দিকে চলে যাওয়ায় সেই ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
এদিকে শুধু আন্তর্জাতিক বাজার নয়, বাংলাদেশের বাজারেও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর) স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে।
বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকায়।
এ ছাড়া:
- ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা
- ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা
- সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা
নতুন এই মূল্য মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও জ্বালানির দামের ওঠানামা আগামী কয়েক সপ্তাহেও অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের মূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্বর্ণবাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।