{{ news.section.title }}
ঈদ বোনাসের টাকাও দেখাতে হবে আয়কর রিটার্নে
সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের বড় একটি অংশ ঈদুল আজহা উপলক্ষে উৎসব বোনাস পেয়ে থাকেন। অনেকে সেই বোনাসের টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনকে উপহার, ঈদের বাজারসদাই কিংবা ভ্রমণের খরচ মেটান। তবে করদাতাদের মনে রাখতে হবে, এই বোনাসের টাকাও আয় হিসেবে গণ্য হয়। তাই আয়কর রিটার্নে তা সঠিকভাবে দেখাতে হবে।
যাঁরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তাঁদের মূল বেতনের পাশাপাশি উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্ত অর্থ আলাদা করে আয় হিসেবে দেখাতে হয়। অনেকেই মনে করেন, ঈদ বা উৎসব বোনাস রিটার্নে না দেখালেও সমস্যা নেই। কিন্তু কর বিধি অনুযায়ী এটি সঠিক ধারণা নয়। চাকরিজীবীদের আয়ের বিবরণীতে উৎসব ভাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এবার যে ঈদ বোনাস পাওয়া হয়েছে, সেটি যে আয়বর্ষের মধ্যে পড়বে, সেই আয়বর্ষের পরবর্তী আয়কর রিটার্নে দেখাতে হবে। শুধু বোনাস পাওয়া নয়, ঈদ উপলক্ষে কত টাকা খরচ করা হয়েছে, সেটিও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবরণীতে উল্লেখ করতে হয়। অর্থাৎ বোনাসের টাকা আয় হিসেবে দেখাতে হবে, আর ঈদের কেনাকাটা, বাজারসদাই, যাতায়াত, উপহার বা অন্যান্য উৎসব খরচ জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে দেখাতে হবে।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় চাকরিজীবীদের বেতন খাতে মূল বেতনসহ সংশ্লিষ্ট সব ভাতা ও সুবিধার তথ্য দিতে হয়। সরকারি বেতন কাঠামোর কর্মীদের ক্ষেত্রে উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা আলাদা খাত হিসেবে দেখানোর সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও প্রাপ্ত বেতন ও ভাতার মোট হিসাব রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়।
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বিবরণীও গুরুত্বপূর্ণ। আইটি-১০বি বা সংশ্লিষ্ট সম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে উৎসব ও অন্যান্য বিশেষ ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করতে হয়। কর কর্মকর্তারা এই তথ্যের মাধ্যমে করদাতার আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করেন। কারও ঘোষিত আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি হলে তা কর কর্তৃপক্ষের নজরে আসতে পারে।
ঈদে পোশাক কেনা, গরু বা কোরবানির অংশের খরচ, আত্মীয়স্বজনকে উপহার, ভ্রমণ, খাবারদাবার বা অন্যান্য সামাজিক ব্যয় এসবই জীবনযাত্রার ব্যয়ের অংশ হতে পারে। তাই রিটার্ন প্রস্তুতের সময় বোনাসের আয় এবং উৎসবের খরচ আলাদা করে হিসাব রাখা ভালো।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের আয়, সম্পদ, দায় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য দেখতে চায়। এর উদ্দেশ্য হলো করদাতার বৈধ আয় ও জীবনযাত্রার মানের মধ্যে মিল আছে কি না, তা যাচাই করা। তাই বোনাসের টাকা খরচ হয়ে গেলেও সেটি রিটার্নে আয় হিসেবে দেখানো থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
বর্তমানে দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা কোটির ঘরে পৌঁছালেও নিয়মিত রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিটার্নে আয় ও ব্যয়ের তথ্য সঠিকভাবে দেখালে ভবিষ্যতে করসংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সহজ হয়। বিশেষ করে চাকরিজীবীদের উচিত বেতন বিবরণী, বোনাস, ব্যাংক লেনদেন ও উৎসব খরচের হিসাব সংরক্ষণ করা।
সব মিলিয়ে ঈদ বোনাস শুধু উৎসবের বাড়তি আনন্দ নয়, এটি কর রিটার্নের আয় হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরবর্তী আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতের সময় বোনাসের টাকা এবং ঈদসংক্রান্ত ব্যয় দুটোই সঠিকভাবে উল্লেখ করা জরুরি।