{{ news.section.title }}
যারা পাঁচটা ছবিও করেনি তারাও দুই-তিনজন বডিগার্ড নিয়ে ঘোরে: বাপ্পারাজ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরার প্রবণতা নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পীদের নিরাপত্তা, নির্বাচন এবং শিল্পী সমিতির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই অভিনেতা।
বাপ্পারাজ বলেন, শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে অতীতে তেমন কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেলেও, অনেক সময় সেটি বাস্তব নিরাপত্তার চেয়ে ব্যক্তিগত শক্তিমত্তা প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, শিল্পীদের আসলে বডিগার্ড নিয়ে ঘোরার দরকার নেই। যারা তেমন কাজই করেননি বা দর্শকের কাছে বড় কোনো পরিচিতিও তৈরি হয়নি, তাদের মধ্যেও দুই-তিনজন দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরার প্রবণতা দেখা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাপ্পারাজ বলেন, শিল্পীদের সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক হওয়া উচিত ভালোবাসা ও আন্তরিকতার, তাই অযথা দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তার মতে, একজন শিল্পী যদি সত্যিকার অর্থে মানুষের ভালোবাসা পান, তাহলে বাড়তি নিরাপত্তা প্রদর্শনের প্রয়োজন হয় না।
আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাপ্পারাজ। দেশ রূপান্তর ও কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি একটি প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে আসতে পারেন। একই প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তির প্রার্থী হওয়ার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে শিল্পীদের মধ্যে বিভেদ বা কাদা ছোড়াছুড়ি চান না বাপ্পারাজ। তিনি বলেন, শিল্পীরা সবাই একটি পরিবারের মতো। নির্বাচন একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া মাত্র; এখানে কেউ কারও শত্রু নন। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটু কথা বা বিভাজন তৈরি না করার আহ্বান জানান তিনি। সময় টিভির প্রকাশিত ভিডিও অংশেও বাপ্পারাজকে বলতে শোনা যায়, শিল্পীরা সবাই এক পরিবার এবং কেউ কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না।
অতীতের বিতর্ক নিয়ে আর কথা না বাড়ানোর অবস্থানও জানান বাপ্পারাজ। তার মতে, যা হয়ে গেছে তা নিয়ে পড়ে থাকলে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সামনে এগোনো কঠিন হবে। বরং শিল্পী সমিতিকে আরও স্বচ্ছ, বাস্তবমুখী এবং শিল্পীদের প্রয়োজনভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে চান তিনি।
বাপ্পারাজ জানান, নির্বাচনে জয়ী হলে প্রথমেই সংগঠনের ভেতরের বাস্তব সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখা হবে। শিল্পীদের প্রকৃত সমস্যা কী, সমিতির কার্যক্রম কোথায় দুর্বল, সদস্যদের জন্য কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন-এসব বিষয় আগে বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি। আগাম বড় বড় প্রতিশ্রুতি না দিয়ে কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার কথাও বলেন এই অভিনেতা।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা বিতর্ক, বিভাজন ও উত্তেজনা দেখা গেছে। তাই বাপ্পারাজের ঐক্যের আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে তিনি যখন বলেন, শিল্পীদের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়-তখন তা চলচ্চিত্র পরিবারের ভেতরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বাপ্পারাজের বক্তব্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, তিনি শিল্পীদের অযথা দেহরক্ষী সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, আসন্ন নির্বাচনে তিনি সংঘাত নয়, ঐক্য ও বাস্তব কাজের রাজনীতি সামনে আনতে চান। এখন দেখার বিষয়, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তার এই অবস্থান কতটা সাড়া ফেলে।