{{ news.section.title }}
“Soul” (2020): জীবনের আসল উদ্দেশ্য খোঁজার অনুপ্রেরণামূলক এক গল্প!
সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়া আর দিনশেষে ক্লান্ত হয়ে ফেরা, এটাই কি আমাদের জীবন? আমরা সবাই ই কোনো না কোনো বড় কিছুর আশায় বর্তমানকে বিসর্জন দিচ্ছি। পিক্সারের ২০২০ সালের মাস্টারপিস 'Soul' আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের সৌন্দর্য কেবল বড় অর্জনের জন্য নয়, বরং এক টুকরো পিৎজার স্বাদ নেওয়া কিংবা গাছের ঝরে পড়া পাতার দিকে তাকিয়ে থাকার মাঝেও রয়েছে।
সিনেমার প্রধান চরিত্র জো গার্ডনার একজন মিউজিক টিচার, যার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন হলো একজন বিখ্যাত জ্যাজ মিউজিশিয়ান হওয়া। জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগটি যখন তার হাতে আসে, ঠিক তখনই এক দুর্ঘটনায় সে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়। জো-র আত্মা পৌঁছে যায় ‘দ্য গ্রেট বিফোর’-এ, যেখানে আত্মাদের পৃথিবীতে পাঠানোর আগে তাদের ‘স্পার্ক’ বা বিশেষ প্রেরণা দেওয়া হয়ে থাকে। সেখানে তার পরিচয় হয় ‘২২’ (Twenty-Two) নামক এক জেদি আত্মার সাথে, যে হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে আসতে অস্বীকার করছে কারণ সে জীবনের কোনো মানে খুঁজে পায় না।
সিনেমাটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো ‘স্পার্ক’ (Spark) শব্দটির ব্যাখ্যা। জো মনে করত তার স্পার্ক হলো জ্যাজ মিউজিক বা পিয়ানো বাজানো অর্থাৎ তার জীবনের লক্ষ্যই তার পরিচয়। কিন্তু সিনেমার শেষ পর্যায়ে সে উপলব্ধি করতে পারে যে, স্পার্ক মানে কোনো পেশা বা প্রতিভা নয়, স্পার্ক হলো বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছা। ২২ যখন জো-র শরীরে পৃথিবীতে আসে, তখন সে পিৎজার স্বাদ, শরতের ঝরা পাতার সৌন্দর্য বা মানুষের সাথে সাধারণ আড্ডার মাঝে যে আনন্দ খুঁজে পায়, সেটাই তাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। সিনেমাটি আমাদের দেখায় যে, জীবনের উদ্দেশ্য কোনো গন্তব্যে পৌঁছানো নয়, বরং গন্তব্যের দিকে যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভব করা।
সিনেমাটিতে একটি বিশেষ জায়গার কথা বলা হয়েছে যার নাম ‘দ্য জোন’ (The Zone)। যখন মানুষ কোনো কাজে মগ্ন থাকে, তখন সে এই জোনে প্রবেশ করে। কিন্তু এই জোন এবং ‘লস্ট সোলস’ (হারিয়ে যাওয়া আত্মা)-এর সীমানা খুব পাতলা। কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত প্যাশন বা আসক্তি যখন মানুষকে চারপাশের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তখন সে নিজেই নিজের ভেতরে হারিয়ে যায়। জো যখন তার স্বপ্নের জ্যাজ শো-টি শেষ করে, সে বুঝতে পারে যে তার জীবনে বিরাট কোনো পরিবর্তন আসেনি। সে উপলব্ধি করে, সে যে বড় সাফল্যের পেছনে ছুটছিল, তা আসলে একটি মরীচিকা ছিল।
জো গার্ডনারের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি আসে তখন, যখন সে তার পকেটে থাকা ২২-এর জমানো ছোট ছোট জিনিসগুলো, যেমন- একটি ললিপপ, একটি গাছের বীজ এবং একটি সুতোর রিল দেখে। এই সাধারণ জিনিসগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন মানে কেবল অ্যাওয়ার্ড জেতা বা ধনী হওয়া নয়। জীবন মানে হলো বাতাসের স্পর্শ অনুভব করা, সুস্বাদু খাবার খাওয়া এবং প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো।
মুভির একটি পর্যায়ে একটি ছোট মাছ এবং বড় মাছের গল্প বলা হয়। ছোট মাছটি বড় মাছকে জিজ্ঞেস করে, "আমি সমুদ্র খুঁজতে চাই।" বড় মাছটি উত্তর দেয়, "তুমি তো সমুদ্রেই আছ।" ছোট মাছটি অবাক হয়ে বলে, "এটা তো কেবল জল!" আমরাও মূলত জো-র মতো ‘সমুদ্র’ বা বড় কোনো উদ্দেশ্যের খোঁজে জীবন কাটিয়ে দিই, অথচ আমরা ভুলেই যাই যে, যে ‘জলে’ আমরা প্রতিদিন বাস করছি, সেটাই আসল আমাদের জীবন!