সিনেমার উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিলেন থালাপতি

সিনেমার উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিলেন থালাপতি
ছবির ক্যাপশান, সিনেমার উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিলেন থালাপতি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

তামিল চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও গতিশীল করতে প্রেক্ষাগৃহে শো প্রদর্শনসংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে তামিলনাড়ু সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের সব সিনেমা হলে নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত তামিল ছবির জন্য মুক্তির দিন থেকে প্রথম সাত দিন প্রতিদিন পাঁচটি করে শো চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নির্দেশনার পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিবেশক ও প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন ছবির প্রথম সপ্তাহে অতিরিক্ত শো চালুর দাবি জানানো হচ্ছিল। তাদের মতে, একটি সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য মুক্তির প্রথম সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় দর্শকের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত শো চালু হলে দর্শক যেমন সহজে টিকিট পাবেন, তেমনি প্রযোজক ও হল মালিকদের আয়ও বাড়বে।

 

এর আগে তামিলনাড়ুর সিনেমা পরিচালনা সংক্রান্ত ১৯৫৭ সালের বিধিমালা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সাধারণত প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি শো প্রদর্শনের সুযোগ ছিল। বিশেষ উৎসব, সরকারি ছুটি কিংবা বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তির সময় অতিরিক্ত শো চালাতে হলে আলাদা অনুমতি নিতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তে সেই জটিলতা অনেকটাই কমানো হয়েছে।

 

সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, নতুন তামিল ছবির মুক্তির প্রথম সাত দিন প্রতিদিন পাঁচটি শো চালানো যাবে। পাশাপাশি শনিবার, রবিবার, সরকারি ছুটি ও স্থানীয় উৎসবের দিনেও পাঁচটি শো প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে আলাদা করে সরকার বা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে না বলে জানানো হয়েছে।

 

চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট বাজেটের সিনেমাগুলোও উপকৃত হতে পারে। কারণ বড় তারকার সিনেমা ছাড়াও মুক্তির প্রথম সপ্তাহে দর্শক টানার সুযোগ বাড়বে। অতিরিক্ত শো থাকলে একই দিনে বেশি দর্শক সিনেমা দেখার সুযোগ পাবেন, ফলে বক্স অফিস সংগ্রহও বাড়তে পারে।

 

তামিল সিনেমা দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ভারতের অন্যতম শক্তিশালী চলচ্চিত্র শিল্প হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে বড় বাজেটের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক ও নতুন নির্মাতাদের ছবিও দর্শকের আগ্রহ পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাগৃহভিত্তিক ব্যবসা বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তবে অতিরিক্ত শো চালুর ক্ষেত্রে দর্শক নিরাপত্তা, হল ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের কর্মঘণ্টা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে বড় তারকার সিনেমা মুক্তির সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং রাতের শো পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

 

সব মিলিয়ে তামিলনাড়ু সরকারের এই সিদ্ধান্ত তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন গতি আনতে পারে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে বেশি শো চালানোর সুযোগ প্রযোজক, পরিবেশক, হল মালিক ও দর্শক—সব পক্ষের জন্যই সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ