মুক্তির আগেই আলোচনায় অক্ষয়ের ‘সামুক’

মুক্তির আগেই আলোচনায় অক্ষয়ের ‘সামুক’
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার এবার পা রাখতে যাচ্ছেন নতুন এক ঘরানায়। তাঁর নতুন সিনেমা ‘সামুক’ ঘোষণার পর থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, এটি হতে যাচ্ছে ভারতের অন্যতম বড় পরিসরের সাই-ফাই এলিয়েন সারভাইভাল থ্রিলার, যেখানে মানুষ ও এলিয়েনের ভয়ংকর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে গল্পের মূল আবহ।

গত ২৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির ঘোষণা দেওয়া হয়। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন কনিষ্ক ভার্মা। প্রযোজনায় থাকছেন বিপুল অমৃতলাল শাহ। বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সামুক’ একটি বড় বাজেটের সাই-ফাই অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে সারভাইভাল হরর, মিলিটারি রিয়ালিজম এবং এলিয়েন থ্রিলারের উপাদান একসঙ্গে রাখা হবে।

 

অক্ষয় কুমার নিজেও এই সিনেমা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্ষয় জানিয়েছেন, সাই-ফাই এলিয়েন থ্রিলার ঘরানাটি তাঁর জন্য সম্পূর্ণ নতুন এবং ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রেও এটি এক ভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা হতে যাচ্ছে।

 

চেনা ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন এলিয়েন গল্প

ভারতীয় সিনেমায় এলিয়েনভিত্তিক গল্প আগে দেখা গেলেও সেগুলোর বেশিরভাগেই পরিবার, বন্ধুত্ব বা আবেগঘন সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘কোই মিল গায়া’ কিংবা ‘পিকে’র মতো সিনেমায় এলিয়েনদের তুলনামূলকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ বা মানবিক চরিত্রে দেখানো হয়েছিল। তবে ‘সামুক’ সেই পরিচিত ধারা থেকে বেরিয়ে এক অন্ধকার, ভয়ংকর ও টানটান উত্তেজনাময় পথে হাঁটতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ সিনেমার গল্পে থাকবে মানুষ বনাম এলিয়েন সংঘর্ষ। এখানে প্রেম, পারিবারিক আবেগ বা হালকা মেজাজের বিনোদনের বদলে গুরুত্ব পাবে বেঁচে থাকার লড়াই, আতঙ্ক, প্রযুক্তি, সামরিক বাস্তবতা এবং অজানা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংঘর্ষ। পিঙ্কভিলার প্রতিবেদনে সিনেমাটিকে “ম্যান ভার্সেস এলিয়েন” ঘরানার অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্র্যাকটিক্যাল ইফেক্টে তৈরি হবে এলিয়েন

‘সামুক’ নিয়ে আলোচনার অন্যতম বড় কারণ এর নির্মাণশৈলী। ভারতীয় বড় বাজেটের সিনেমায় সাধারণত ভিএফএক্স ও সিজিআইয়ের ওপর বেশি নির্ভর করা হলেও এই সিনেমায় বাস্তবধর্মী প্র্যাকটিক্যাল ইফেক্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ এলিয়েন চরিত্র বা মনস্টারকে পুরোপুরি কম্পিউটারনির্ভর না করে সেটে বাস্তব কাঠামো, কস্টিউম, অ্যানিমাট্রনিক বা হাতে তৈরি ক্রিয়েচার ডিজাইনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হতে পারে।

 

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটিতে হলিউডের ক্রিয়েচার ডিজাইনার অ্যালেক গিলিস যুক্ত হয়েছেন। তিনি ‘এলিয়েন’ ও ‘প্রিডেটর’ সিরিজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্মাতারা এমন একটি এলিয়েন তৈরি করতে চান, যা বাস্তবে সেটে উপস্থিত থাকবে এবং দর্শকদের কাছে আরও স্পর্শযোগ্য ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।

 

এই সিদ্ধান্ত সিনেমাটিকে ভারতীয় সাই-ফাই ঘরানায় আলাদা জায়গা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বাস্তবধর্মী মনস্টার বা প্র্যাকটিক্যাল ক্রিয়েচার ব্যবহার করলে অভিনেতাদের প্রতিক্রিয়াও বেশি স্বাভাবিক হয় এবং দৃশ্যগুলোতে বাস্তবতার অনুভূতি বাড়ে।

 

হলিউড টিমে বড় অ্যাকশন পরিকল্পনা

সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যকে আন্তর্জাতিক মানের করতে ব্রিটিশ স্টান্ট কো-অর্ডিনেটর লিউক টামবারকে যুক্ত করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, লিউক টামবার ‘মিশন: ইম্পসিবল-দ্য ফাইনাল রেকনিং’–এর মতো আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে কাজ করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ‘সামুক’-এর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত ও বড় পরিসরে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

অন্যদিকে, অক্ষয় কুমার নিজেও বলিউডের অন্যতম বড় অ্যাকশন তারকা হিসেবে পরিচিত। মার্শাল আর্টে দক্ষতা, নিজে স্টান্ট করার প্রবণতা এবং দীর্ঘদিনের অ্যাকশন অভিজ্ঞতা তাঁকে এই ঘরানার জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে বলে মনে করছেন সিনেমাবোদ্ধারা। অ্যালেক গিলিসও অক্ষয়কে জেসন স্ট্যাথাম ও টম ক্রুজের মতো আন্তর্জাতিক অ্যাকশন তারকাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কনিষ্ক ভার্মা ও বিপুল শাহের নতুন জুটি

‘সামুক’ পরিচালনা করবেন কনিষ্ক ভার্মা, যিনি এর আগে অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানায় কাজ করেছেন। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ‘সনক’, ‘ইনসাইড এজ’ ও ‘গ্লোরি’র মতো কাজের জন্য পরিচিত কনিষ্ক ভার্মা এই সিনেমার জন্য বিপুল শাহের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

 

প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহও বলিউডে থ্রিলার, অ্যাকশন ও ভিন্নধর্মী কনসেপ্টের জন্য পরিচিত। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে তাঁর আগের সহযোগিতাও দর্শকের কাছে পরিচিত। এবার ‘সামুক’-এর মাধ্যমে তাঁরা ভারতীয় সিনেমায় এমন একটি ঘরানা বড় পরিসরে আনার চেষ্টা করছেন, যা বলিউডে এখনো খুব বেশি ব্যবহৃত হয়নি।

 

শুটিং শুরু হতে পারে আগস্টে

সিনেমাটি এখনো নির্মাণ-পূর্ব প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। পিঙ্কভিলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টে ‘সামুক’-এর শুটিং শুরু হতে পারে। যদিও নির্মাতারা এখনো পূর্ণাঙ্গ কাস্ট, মুক্তির তারিখ বা গল্পের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি।

 

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি বড় স্কেলে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় প্রোডাকশন ডিজাইন, ক্রিয়েচার নির্মাণ, স্টান্ট, ভিএফএক্স ও লোকেশন পরিকল্পনায় দীর্ঘ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সিনেমায় শুধু গল্প নয়, ভিজ্যুয়াল বিশ্বাসযোগ্যতাও বড় বিষয়। তাই নির্মাতারা শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ টেকনিক্যাল টিম যুক্ত করছেন।

 

অক্ষয়ের ক্যারিয়ারে নতুন পরীক্ষা

অক্ষয় কুমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অ্যাকশন, কমেডি, দেশপ্রেমভিত্তিক সিনেমা, সামাজিক বার্তানির্ভর গল্প ও থ্রিলারে কাজ করেছেন। তবে সাই-ফাই এলিয়েন সারভাইভাল থ্রিলার তাঁর জন্য এক নতুন পরীক্ষা। সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে বড় বাজেটের ভিজ্যুয়াল স্পেকট্যাকল নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা বেড়েছে। সেই জায়গায় ‘সামুক’ সফল হলে এটি ভারতীয় মূলধারার সিনেমায় সাই-ফাই হরর-থ্রিলারের নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।

 

তবে ঝুঁকিও কম নয়। ভারতীয় দর্শক সাই-ফাই ঘরানায় এখনো খুব বাছাই করে সিনেমা গ্রহণ করে। গল্প, ভিজ্যুয়াল, অ্যাকশন, আবেগ ও বাস্তবতার ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারলে বড় বাজেটের এমন প্রজেক্ট প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থও হতে পারে। তাই ‘সামুক’ নিয়ে আগ্রহ যেমন বেশি, তেমনি প্রত্যাশার চাপও বড়।

 

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


সম্পর্কিত নিউজ