বক্স অফিসে ‘ককটেল টু’র আয় কত?

বক্স অফিসে ‘ককটেল টু’র আয় কত?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের রোমান্টিক ঘরানার সিনেমাগুলোর মধ্যে গত এক দশকে খুব কম চলচ্চিত্রই দর্শকদের মধ্যে ‘ককটেল’-এর মতো জনপ্রিয়তা তৈরি করতে পেরেছিল। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবির সাফল্যের প্রায় ১৪ বছর পর বড় পর্দায় এসেছে ‘ককটেল ২’। শাহিদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত ছবিটি মুক্তির আগ থেকেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। মুক্তির পর সেই প্রত্যাশা অনেকাংশেই পূরণ করেছে ছবিটি। সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে সিনেমাটি।

গত ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নির্মাতা হোমি আদাজানিয়ার পরিচালনায় নির্মিত এই রোমান্টিক ড্রামাটি আধুনিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও আবেগের গল্পকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। শাহিদ কাপুরের পরিণত অভিনয়, কৃতি শ্যাননের আবেগঘন চরিত্র এবং রাশমিকা মান্দানার প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছবিটিকে দর্শকদের কাছে আলাদা করে তুলেছে।

 

মুক্তির প্রথম দিনেই ভারতীয় বক্স অফিসে ছবিটি ১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি নেট আয় করে চমক দেখায়। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত রোমান্টিক ঘরানার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম শক্তিশালী ওপেনিং। প্রথম দিনের বিশ্বব্যাপী আয় ২০ কোটির ঘর অতিক্রম করে।

 

দ্বিতীয় দিনে ছবিটির আয়ে আরও গতি আসে। শনিবারে দর্শক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে এবং দুই দিনের শেষে ভারতীয় বাজারে মোট নেট আয় দাঁড়ায় ২৯ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ইতিবাচক মুখে মুখে প্রচার এবং তরুণ দর্শকদের আগ্রহ এই বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

 

তৃতীয় দিনেও ছবিটি ডাবল ডিজিট আয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়। প্রথম সপ্তাহান্ত শেষে ছবির ভারতীয় নেট সংগ্রহ ৪৭ কোটির বেশি অতিক্রম করে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় যোগ হয়। বিশ্বব্যাপী আয় ৭৫ কোটির ঘর ছাড়িয়ে যায় বলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক বক্স অফিস রিপোর্ট অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে ছবিটি প্রায় ৫ কোটি রুপি আয় করেছে। এর ফলে ভারতের বাজারে ছবিটির মোট নেট সংগ্রহ ৬৬ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী আয় ১০০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

 

‘ককটেল ২’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে এর তারকা ত্রয়ীকে। শাহিদ কাপুর দীর্ঘদিন পর এমন একটি রোমান্টিক চরিত্রে ফিরেছেন, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অন্যদিকে কৃতি শ্যাননের অভিনয় অনেক দর্শক ও সমালোচকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার চরিত্র নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। রাশমিকা মান্দানার উপস্থিতিও ছবির আবেগ ও বিনোদনকে সমৃদ্ধ করেছে।

 

রাশমিকা মান্দানা এক সাক্ষাৎকারে জানান, ছবিটির গল্প, চরিত্র এবং নির্মাতা হোমি আদাজানিয়ার কাজের ধরন তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। তিনি বলেন, ছবির প্রতিটি চরিত্রই আলাদা এবং নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

 

ছবিটি মুক্তির পর কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার গুঞ্জনও ছড়ায়। তবে রাশমিকা এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেন, কৃতির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং দুই অভিনেত্রীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

 

দর্শক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও ছবিটি উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক দর্শক ছবিটিকে ‘রিফ্রেশিং রোমান্টিক এন্টারটেইনার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে সম্পর্কের টানাপোড়েন, আবেগ ও আধুনিক প্রেমের গল্পকে নতুনভাবে উপস্থাপনের জন্য ছবিটি প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

যদিও সমালোচকদের একটি অংশ ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও বাণিজ্যিক সাফল্যের দিক থেকে ছবিটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মহামারির পর বলিউডে রোমান্টিক ঘরানার চলচ্চিত্রের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, ‘ককটেল ২’ সেটি কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

ছবিটির আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল সেন্সর বোর্ডের ‘এ’ সার্টিফিকেট। শাহিদ কাপুর নিজেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ছবিতে এমন কিছু নেই যা শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন।

 

বক্স অফিসে ছবিটির সামনে অবশ্য প্রতিযোগিতাও কম ছিল না। একই সময়ে একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। বরুণ ধাওয়ানের ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’, রাম চরণের ‘পেড্ডি’, কঙ্গনা রানাওয়াতের ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’, ববি দেওলের ‘বান্দর’ এবং আরও কয়েকটি আলোচিত ছবির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে ‘ককটেল ২’-কে। তবুও নিজেদের দর্শকশ্রেণি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ছবিটি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো তরুণ দর্শকদের আবারও রোমান্টিক চলচ্চিত্রের প্রতি আকৃষ্ট করা। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাকশন ও দেশপ্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্রের আধিপত্যের মধ্যে ‘ককটেল ২’ সম্পর্কনির্ভর গল্পকে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

২০১২ সালের ‘ককটেল’ ছবিতে সাইফ আলি খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টির ত্রিভুজ প্রেমের গল্প দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করেছিল। নতুন ছবিটি সরাসরি সেই গল্পের ধারাবাহিকতা নয়, বরং আধুনিক প্রজন্মের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

বর্তমান বক্স অফিস প্রবণতা বলছে, প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই ছবিটি ৭০ কোটির ঘর অতিক্রম করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবির আয় ক্রমাগত বাড়ছে। ট্রেড বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, সঠিক গতি বজায় থাকলে ‘ককটেল ২’ খুব সহজেই ১৫০ কোটি রুপির বৈশ্বিক আয়ের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

 

সব মিলিয়ে ‘ককটেল ২’ শুধু একটি সিক্যুয়েল নয়, বরং বলিউডের রোমান্টিক ঘরানার নতুন প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। শাহিদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানার রসায়ন, আধুনিক সম্পর্কের গল্প এবং শক্তিশালী বক্স অফিস পারফরম্যান্স ছবিটিকে ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত হিন্দি চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।


সম্পর্কিত নিউজ