{{ news.section.title }}
বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামান্থার আবেগঘন বার্তা
নিজের আসন্ন তেলুগু সিনেমা ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’-এর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। সিনেমাটির প্রচারের অংশ হিসেবে সম্প্রতি চেন্নাই সফরে গিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও সাবেক সহ-অভিনেতা বিজয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেই সাক্ষাতের মুহূর্তের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে বিজয়কে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সামান্থা, যা ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা বার্তায় সামান্থা লিখেছেন, চেন্নাই সফরের শুরু থেকেই তিনি এক ধরনের বিশেষ অনুভূতি কাজ করতে দেখেছেন নিজের মধ্যে। কারণ এই সফরে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
সামান্থার ভাষায়, ‘আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, বিজয় স্যার শুধুমাত্র একজন চলচ্চিত্র তারকা হওয়ার জন্য জন্মাননি। তার ব্যক্তিত্ব, মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার যে সহজাত শক্তি রয়েছে, তা সবসময়ই আমাকে মনে করিয়েছে তিনি আরও বড় দায়িত্ব পালনের জন্য তৈরি।’
বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রার প্রশংসা করে অভিনেত্রী বলেন, জীবনের এমন একটি সময় যখন একজন মানুষ নিজের পেশার শীর্ষে অবস্থান করেন, তখন সেই নিরাপদ অবস্থান ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তার মতে, এটি শুধু সাহসের বিষয় নয়, বরং মানুষের জন্য কিছু করার গভীর বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
তিনি লেখেন, ‘যে জায়গায় আপনি ইতোমধ্যেই সফল, সেটি ছেড়ে নতুন এক ক্ষেত্র বেছে নেওয়া সত্যিই সাহসের কাজ। মানুষ সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত নেয় তখনই, যখন সে বিশ্বাস করে তার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
পোস্টে জীবনের লক্ষ্য ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নিজের উপলব্ধিও তুলে ধরেন সামান্থা। তিনি বলেন, জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রায় প্রত্যেক মানুষই নিজের ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। কিন্তু সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাস্তবে এগিয়ে আসেন খুব কম মানুষ।
বিজয়ের উদ্দেশে শুভকামনা জানিয়ে সামান্থা লেখেন, ‘আপনার জন্য শক্তি, প্রজ্ঞা এবং নিজের বিশ্বাসের পথে অটল থাকার সাহস কামনা করছি। তরুণদের জন্য আপনার যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে-জীবন অনেক সময় আমাদের কল্পনার চেয়েও বড় স্বপ্ন ও দায়িত্বের দিকে নিয়ে যায়।’
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের দুই জনপ্রিয় মুখ সামান্থা ও বিজয় অতীতে একাধিক সফল সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন। পর্দার সেই রসায়নের কারণে দর্শকদের কাছেও তাদের সম্পর্ক বরাবরই আলোচনার বিষয় ছিল। তবে এবার তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজনীতি ও নেতৃত্ব নিয়ে সামান্থার মন্তব্য।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের সফল অভিনয় ক্যারিয়ারের পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন বিজয়। পরে তিনি ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’ (টিভিকে) নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। দল গঠনের পর থেকেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংযোগ, জনসভা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তিনি। ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথাও ঘোষণা দিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা-রাজনীতিক।
অন্যদিকে, ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন সামান্থা। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শাকুন্তলম’ ও ‘খুশি’র পর এটিই তার প্রথম বড় পর্দার সিনেমা। পারিবারিক আবেগ, সম্পর্ক এবং সামাজিক বার্তাভিত্তিক এই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্মাতাদের আশা, আগামী ১৯ জুন মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে ভালো সাড়া পাবে।
চলচ্চিত্র জগতের দুই জনপ্রিয় তারকার এই সাক্ষাৎ এবং সামান্থার প্রশংসাসূচক মন্তব্যকে অনেকেই দক্ষিণ ভারতের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে রাজনীতিতে বিজয়ের নতুন অধ্যায় এবং সেই যাত্রার প্রতি সহকর্মীদের প্রকাশ্য সমর্থন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।