রাশমিকার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় নেটদুনিয়া

রাশমিকার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় নেটদুনিয়া
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বলিউডে এমন কিছু সিনেমা আছে, যেগুলো মুক্তির বহু বছর পরও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকে। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ককটেল’ ঠিক তেমনই একটি চলচ্চিত্র। প্রেম, বন্ধুত্ব, সম্পর্কের জটিলতা এবং আত্মপরিচয়ের সংকটকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমা শুধু বক্স অফিসে সফল হয়নি, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। প্রায় দেড় দশক পর সেই জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নাম নিয়েই বড় পর্দায় এসেছে ‘ককটেল ২’।

তবে নির্মাতারা শুরু থেকেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন, এটি প্রথম সিনেমার সরাসরি গল্পের ধারাবাহিকতা নয়। বরং নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক, ভালোবাসা, একাকিত্ব, আত্মপরিচয় এবং আধুনিক নগরজীবনের মানসিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে নতুন অধ্যায়।

 

প্রথম ‘ককটেল’-এর সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল এর চরিত্রগুলো। দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ভারোনিকা, ডায়ানা পেন্টির মীরা এবং সাইফ আলী খানের গৌতম-এই তিন চরিত্রের মধ্যকার সম্পর্কের রসায়ন দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। বিশেষ করে ভারোনিকা চরিত্রটি বলিউডে নারী চরিত্রের উপস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। বাহ্যিকভাবে স্বাধীনচেতা হলেও ভেতরে ভঙ্গুর এক নারীর গল্প দর্শককে আবেগতাড়িত করেছিল।

 

নতুন সিনেমায় সেই জায়গায় দেখা যাবে শহিদ কাপুর, কৃতি স্যানন এবং রাশমিকা মান্দানাকে। তিনজনই বলিউডের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় মুখ। ফলে তাদের একসঙ্গে পর্দায় দেখা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ শুরু থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

গত কয়েক বছরে শহিদ কাপুরকে মূলত থ্রিলার ও অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে। ‘কবীর সিং’, ‘ব্লাডি ড্যাডি’ কিংবা বিভিন্ন ওটিটি প্রজেক্টে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। ‘ককটেল ২’-এর মাধ্যমে তিনি আবারও রোমান্টিক ড্রামার জগতে ফিরেছেন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, শহিদের এই প্রত্যাবর্তন সিনেমাটির অন্যতম বড় আকর্ষণ।

 

অন্যদিকে কৃতি স্যানন বর্তমানে বলিউডের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রীদের একজন। ‘মিমি’, ‘তেরি বাতোঁ মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। নতুন এই সিনেমায় তার চরিত্রটিকে কেন্দ্র করেই গল্পের বড় অংশ আবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

রাশমিকা মান্দানাও বর্তমানে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত তারকা। দক্ষিণী সিনেমা থেকে উঠে এসে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ‘অ্যানিমেল’-এর সাফল্যের পর তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। ফলে ‘ককটেল ২’-এ তাকে নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলও কম নয়।

 

চলচ্চিত্রটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাতা। প্রথম ‘ককটেল’ পরিচালনা করেছিলেন হোমি আদাজানিয়া। সম্পর্কভিত্তিক গল্প বলার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব একটি ভঙ্গি রয়েছে। বাস্তবধর্মী সংলাপ, আধুনিক নগরজীবনের আবহ এবং চরিত্রকেন্দ্রিক গল্প বলার জন্য তিনি পরিচিত। নতুন সিনেমাতেও সেই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ের সম্পর্কের বাস্তবতা ২০১২ সালের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং অ্যাপ, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রা মানুষের সম্পর্কের ধরনেও পরিবর্তন এনেছে। ফলে ‘ককটেল ২’ শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়; বরং আধুনিক প্রজন্মের আবেগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন হয়ে উঠতে পারে।

 

অনেক সমালোচক মনে করেন, বর্তমান সময়ে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংকট হলো দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির অভাব এবং একাকিত্বের বৃদ্ধি। মানুষ আগের চেয়ে বেশি সংযুক্ত থাকলেও আবেগগতভাবে অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতাও সিনেমার গল্পে উঠে আসতে পারে।

 

সংগীতের প্রসঙ্গ এলেও প্রথম ‘ককটেল’-এর কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। ‘তুম হি হো বন্ধু’, ‘দারু দেশি’, ‘ইয়াদেঁ’সহ ছবিটির একাধিক গান মুক্তির পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। শুধু সিনেমার অংশ হিসেবেই নয়, গানগুলো আলাদা পরিচয়ও তৈরি করেছিল।

 

সেই কারণে ‘ককটেল ২’-এর সংগীত নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বর্তমান প্রজন্মের দর্শক এখন মৌলিক সুর ও অর্থবহ গানের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। ফলে সংগীত বিভাগ সিনেমাটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

বলিউডে সিকুয়াল নির্মাণের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। অনেক সময় প্রথম কিস্তির জনপ্রিয়তার কারণে দ্বিতীয় কিস্তি অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপে পড়ে যায়। দর্শক তুলনা করতে শুরু করেন এবং নতুন সিনেমা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে হতাশা তৈরি হয়।

 

‘ককটেল ২’-এর ক্ষেত্রেও একই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ প্রথম সিনেমাটি এখন অনেকের কাছেই নস্টালজিয়ার অংশ। ফলে নতুন সিনেমাকে শুধু ভালো হলেই হবে না, দর্শকের আবেগের সঙ্গেও সংযোগ তৈরি করতে হবে।

 

তবে ইতিবাচক দিক হলো, নির্মাতারা প্রথম সিনেমার গল্প পুনরাবৃত্তি করার পথে হাঁটেননি। বরং নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। এ কারণেই ছবিটিকে কেবল সিকুয়াল নয়, বরং একই ভাবনার নতুন সংস্করণ বলেই দেখছেন অনেকে।

 

ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, যদি সিনেমাটি সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক দিক, আবেগের বাস্তবতা এবং আধুনিক প্রজন্মের জীবনধারাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারে, তাহলে এটি শুধু বাণিজ্যিকভাবেই নয়, আলোচনার ক্ষেত্রেও সফল হতে পারে।

 

সব মিলিয়ে ‘ককটেল ২’ এমন এক চলচ্চিত্র, যাকে ঘিরে রয়েছে প্রত্যাশা, কৌতূহল এবং কিছুটা সংশয়ও। শহিদ কাপুর, কৃতি স্যানন ও রাশমিকা মান্দানার ত্রিমুখী রসায়ন, আধুনিক সম্পর্কের গল্প এবং প্রথম সিনেমার স্মৃতি-সবকিছু মিলিয়ে এটি বলিউডের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত রোমান্টিক ড্রামা হয়ে উঠেছে।

 

এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রজন্মের এই ‘ককটেল’ দর্শকদের মনে প্রথম সিনেমার মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে কি না। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত-মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা প্রমাণ করে ‘ককটেল’ নামটির আবেদন এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

 

ভিডিওটি দেখতে লিংকে ক্লিক করুন।


সম্পর্কিত নিউজ