৬ দিনেই শতকোটি রুপি, বক্স অফিসে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর ঝড়

৬ দিনেই শতকোটি রুপি, বক্স অফিসে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর ঝড়
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দর্শকদের ভরপুর বিনোদন দিয়ে বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করছে বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের নতুন কমেডি ধামাকা ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেমা হলে ভিড় জমাচ্ছেন সব বয়সী দর্শক। কমেডি, অ্যাকশন, তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী এবং জনপ্রিয় ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নস্টালজিয়া-সব মিলিয়ে ছবিটি বর্তমানে বলিউডের অন্যতম আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়েছে।

মুক্তির মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ১২৯ কোটির বেশি রুপি আয় করে শতকোটির ক্লাব অতিক্রম করেছে মাল্টি-স্টারার এই সিনেমা। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর বড় পরিসরের পারিবারিক কমেডি সিনেমা হওয়ায় দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে ছবিটি। অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি ও পরেশ রাওয়ালের পুরোনো রসায়নও সিনেমার বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

 

গত ২৬ জুন বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’। এর আগের দিন অর্থাৎ ২৫ জুন বিশেষ পেইড প্রিভিউ শোর মাধ্যমে ছবিটির যাত্রা শুরু হয়। সেই প্রিভিউ থেকেই প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করে সিনেমাটি। এরপর প্রথম দিনেই ভারতের বাজারে ১৫ কোটির বেশি রুপি আয় করে শক্তিশালী সূচনা করে ছবিটি।

 

স্যাকনিল্কের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছয় দিন শেষে ভারতের বাজারে সিনেমাটির নেট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি। ভারতের গ্রস আয় ১০৪ কোটি ২৫ লাখ রুপি ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি বাজার থেকে এসেছে প্রায় ২৫ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে।

 

মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি অসাধারণ ব্যবসা করে। শনিবারে প্রায় ২০ কোটি রুপি এবং রোববারে প্রায় ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করে ছবিটি। বিশেষ করে রোববারে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ট্রেড রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যার শোগুলোতে প্রায় ৬৫ শতাংশ আসন পূর্ণ ছিল।

 

বক্স অফিস বিশ্লেষক তারণ আদর্শ ও জোগিন্দর টুটেজা মনে করছেন, ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল স্পট বুকিং। অগ্রিম বুকিং খুব বেশি না থাকলেও মুক্তির পর দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সিনেমাটির আয় দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ভারতের টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোতে সিনেমাটি দারুণ ব্যবসা করছে।

 

‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ মূলত জনপ্রিয় ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওয়েলকাম’ এবং ২০১৫ সালের ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এর পর প্রায় এক দশক পর দর্শকদের সামনে এসেছে নতুন এই কিস্তি। পুরোনো সিরিজের জনপ্রিয়তাই নতুন ছবিটির জন্য বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

 

সিনেমাটির গল্পে রয়েছে জঙ্গলকে ঘিরে একদল অপরাধী, গ্যাংস্টার এবং বিচিত্র চরিত্রের নানা কাণ্ডকারখানা। একটি অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ঘটনাপ্রবাহ পরে রূপ নেয় হাস্যরস, বিশৃঙ্খলা এবং অ্যাকশনভিত্তিক নানা ঘটনার ধারাবাহিকতায়।

 

অভিনয়শিল্পীদের তালিকাও এই সিনেমার অন্যতম বড় আকর্ষণ। অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সুনীল শেঠি, পরেশ রাওয়াল, রাভিনা ট্যান্ডন, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, দিশা পাটানি, লারা দত্ত, আরশাদ ওয়ার্সি, তুষার কাপুর, আফতাব শিবদাসানি, শ্রেয়াস তালপাড়ে এবং জ্যাকি শ্রফসহ আরও অনেক তারকা। প্রায় ৩০ জনেরও বেশি অভিনয়শিল্পী নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।

 

পরিচালক আহমেদ খান জানিয়েছেন, এটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রজেক্টগুলোর একটি। ছবিটির শুটিংয়ে প্রায় ৫০টি ভ্যানিটি ভ্যান, ২৫০টির বেশি গাড়ি এবং কয়েকশ সদস্যের বিশাল ইউনিট একসঙ্গে কাজ করেছে। প্রযোজনার পরিসর বিবেচনায় এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বলিউড কমেডি প্রজেক্ট।

 

প্রায় ১২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই ছবির প্রযোজকেরা থিয়েটারে মুক্তির আগেই ডিজিটাল, স্যাটেলাইট ও মিউজিক স্বত্ব বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ আয় করেন। ফলে সিনেমাটির ব্যবসায়িক ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বর্তমানে থিয়েটার থেকে আসা আয়ের বড় অংশই প্রযোজকদের মুনাফা হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।

 

যদিও সমালোচকদের কাছ থেকে ছবিটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক ইতিবাচক। রাভিনা ট্যান্ডন সম্প্রতি বলেন, এই ধরনের কমেডি সিনেমাকে বাস্তবতার মাপকাঠিতে বিচার করা ঠিক নয়। তার মতে, জিম ক্যারি কিংবা অ্যাডাম স্যান্ডলারের চলচ্চিত্রের মতো এসব সিনেমার মূল উদ্দেশ্য দর্শকদের বিনোদন দেওয়া।

 

অক্ষয় কুমারও ছবিটির সাফল্যে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তিন দশকের বেশি সময় কাজ করার পরও প্রতিটি শুক্রবার তার কাছে পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনের মতো মনে হয়। দর্শকদের ভালোবাসাই তাকে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা দেয়।

 

ট্রেড বিশ্লেষকদের ধারণা, দ্বিতীয় সপ্তাহে বড় কোনো বলিউড সিনেমা মুক্তি না পাওয়ায় ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ আরও শক্ত অবস্থানে থাকবে। অনেকেই মনে করছেন, খুব দ্রুতই ছবিটি ১৫০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করতে পারে এবং ২০২৬ সালের অন্যতম সফল বলিউড সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ