{{ news.section.title }}
চার দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’
বলিউডে দীর্ঘদিন পর আবারও বড় পরিসরে কমেডি ঘরানার সিনেমার সাফল্যের সাক্ষী হচ্ছে দর্শক। অক্ষয় কুমার অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ মুক্তির মাত্র চার দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করেছে। বক্স অফিসে দুর্দান্ত সূচনা করে সিনেমাটি ইতোমধ্যেই চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত বলিউড সিনেমায় পরিণত হয়েছে।
পরিচালক আহমেদ খানের এই মাল্টিস্টারার কমেডি সিনেমাটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই প্রমাণ করেছে যে, দর্শকদের কাছে এখনো পারিবারিক বিনোদন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি সিনেমার চাহিদা ব্যাপক। বিশেষ করে ‘ওয়েলকাম’ সিরিজের জনপ্রিয়তা এবং অক্ষয় কুমারের কমেডি ঘরানার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ সিনেমাটির ব্যবসায় বড় ভূমিকা রেখেছে।
স্যাকনিল্কসহ বিভিন্ন ট্রেড রিপোর্ট অনুযায়ী, চার দিন শেষে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৬ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। এর মধ্যে ভারতীয় বাজার থেকে এসেছে ৮৬ কোটি ৫৩ লাখ রুপির বেশি এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে প্রায় ২০ কোটি রুপি।
ভারতে সিনেমাটির মোট নেট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি ২৫ লাখ রুপির বেশি। প্রথম সোমবারে আয়ে কিছুটা স্বাভাবিক পতন এলেও সিনেমাটি প্রায় সাড়ে ৮ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত।
মুক্তির আগে পেইড প্রিভিউ থেকেই সিনেমাটি ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করে। এরপর প্রথম দিন প্রায় ১৫ কোটি রুপি, দ্বিতীয় দিনে ২০ কোটির বেশি এবং রোববারে প্রায় ২৫ কোটি রুপি আয় করে ছবিটি। সপ্তাহান্তে ধারাবাহিকভাবে আয় বাড়তে থাকায় সিনেমাটি দ্রুত ১০০ কোটির মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যায়।
ট্রেড বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম সোমবারে ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় কমে যাওয়া বলিউড সিনেমার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সেই পতনের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছে। ফলে আগামী সপ্তাহগুলোতেও সিনেমাটির ব্যবসা ভালো থাকার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ মূলত জনপ্রিয় ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওয়েলকাম’ ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। এরপর ২০১৫ সালে আসে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’। প্রায় এক দশক পর নতুন কিস্তি নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছে নির্মাতারা।
সিনেমাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বিশাল তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী দল। অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি এতে অভিনয় করেছেন সুনীল শেঠি, পরেশ রাওয়াল, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, দিশা পাটানি, রাভিনা ট্যান্ডন, লারা দত্ত, আরশাদ ওয়ার্সি, তুষার কাপুর, শ্রেয়াস তালপাড়ে, আফতাব শিবদাসানি এবং জ্যাকি শ্রফসহ আরও অনেক তারকা।
শুধু তারকাবহুল কাস্টই নয়, প্রযোজনার পরিসর নিয়েও আলোচনায় রয়েছে সিনেমাটি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটিতে প্রায় ৩৪ জন অভিনেতা কাজ করেছেন। শুটিং ইউনিটে ব্যবহৃত হয়েছে ৫০টির বেশি ভ্যানিটি ভ্যান এবং ২৫০টিরও বেশি গাড়ি। বিশাল এই আয়োজনের কারণে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় কমেডি প্রযোজনায় পরিণত হয়েছে।
যদিও সমালোচকদের কাছ থেকে সিনেমাটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, তবে দর্শকদের সাড়া যথেষ্ট ইতিবাচক। বিশেষ করে পারিবারিক দর্শক এবং ‘ওয়েলকাম’ সিরিজের পুরোনো ভক্তদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই এটিকে ‘পুরোনো ধাঁচের বলিউডি বিনোদনের প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে সিনেমাটি নিয়ে কিছু বিতর্কও রয়েছে। মুক্তির আগে সঞ্জয় দত্ত, মিকা সিং, শরিব হাশমিসহ কয়েকজন শিল্পী প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সৃজনশীল মতপার্থক্য, সময়সূচির জটিলতা এবং চরিত্রের পরিসর নিয়ে অসন্তোষকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিনেমাটির গল্পেও রয়েছে একাধিক চমক। শেষ অংশে অক্ষয় কুমারের দ্বৈত চরিত্রের উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে কমেডির সঙ্গে অ্যাকশন ও রহস্যের সংমিশ্রণ ছবিটির আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের অন্যতম সফল উদ্বোধনী সপ্তাহ পার করা বলিউড সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। অনেকের ধারণা, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা মুক্তি না পেলে ছবিটি আগামী দিনগুলোতে আরও বড় অঙ্কের ব্যবসা করতে পারে।
বর্তমানে সিনেমাটির ওটিটি মুক্তি নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও কোন প্ল্যাটফর্মে এবং কবে এটি মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
চার দিনের মধ্যেই ১০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ শুধু অক্ষয় কুমারের জন্যই বড় সাফল্য নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডের কমেডি ঘরানার সিনেমার জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছে।