আনারসের উপকারিতা ও অপকারিতা
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আনারাস একটি মৌসুমি ফল। আমাদের অনেকের কাছে প্রিয় ফল হলেও কেউ কেউ আবার খেতে চাই না । তবে আনারাসের উপকারিতা জানলে সবাই খেতে চাইবে। আসুন জেনে নিই আনারসের উপকারিতা সম্পর্কে ।
পুষ্টির অভাব পূরনে আনারসের গুনাগুন
রস ও পুষ্টি গুণে ভরপুর আনারস তাই খেতে ও লাগে সুস্বাদু । আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটমিন 'এ' ও 'সি; আরো রয়েছে ক্যালসিয়াম,পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে আনারসের উপকারিতা
আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতেও আনারস অনেক সহয়তা করে থাকে। আনারসে ব্রোমেলিন নামক এনজাইম রইয়েছে, যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আনারস খেলে উপকারিতা পাওয়া যাবে।
দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায় আনারসের উপকারিতা
আনারসে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকায় দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে থাকে। নিয়মিত আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর সংক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে। এ ছাড়া মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধানে আনারস বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ভাইরাসজনিত ঠান্ডা ও কাশি প্রতিরোধে আনারসের উপকারিতা
আনারসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকায় ভাইরাসজনিত ঠান্ডা ও কাশি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। তা ছাড়া জ্বর ও জন্ডিস প্রতিরোধে আনারস বেশ উপকারী। এ ছাড়া নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা এবং ব্রংকাইটিসের বিকল্প ওষুধ হিসেবে আনারসের রস খেতে পারেন।
চোখের যত্নে আনারসের উপকারিতা
চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাওয়া রোগ ‘ম্যাকুলার ডিগ্রেডেশন’ রোগটি থেকে রক্ষা করে আনারস । এতে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এ রোগের সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ কমে যায়।
ত্বকের যত্নে আনারসের উপকারিতা
আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে, যা আমাদের শক্তির জোগান দেয়। এতে থাকা প্রোটিন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বককে কুঁচকে যাওয়া থেকে বাঁচায়। এ ছাড়া ব্রণসহ সব রূপলাবণ্যে আনারসের যথেষ্ট কদর রয়েছে।
ক্রিমিনাশক হিসেবে আনারসের উপকারিতা
ক্রিমিনাশক হিসেবে আনারসের রস ভালো কাজ করে। নিয়মিত আনারসের রস খেলে কয়েক দিনের মধ্যেই কৃমির উৎপাত বন্ধ হয়ে যায়। কৃমি দূর করতে সকালে ঘুম থেকে জেগে খালি পেটে আনারস খাওয়া উচিত।
হাড়ের সমস্যাজনিত রোগ প্রতিরোধে আনারস যে ভাবে কাজ করে
আনারসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। তাই খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আনারসের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে
আনারসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা থাকলেও এটি সবার জন্য ঠিক উপযোগী নয়। অনেকেরই আনারস অ্যালার্জির সমস্যা যেমন বিভিন্ন ধরনের চুলকানি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি হতে পারে। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। আনারসের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি আমাদের দেহে রক্তের চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা আনারস বেশি না খেয়ে সপ্তাহে দুদিন খেতে পারেন। আনারস একটি অ্যাসিডিক ফল। তাই খালি পেটে ফলটি খেলে পেটে প্রচণ্ড ব্যথার তৈরি হতে পারে। আনারস আর দুধ একসঙ্গে খাওয়া যায় না, এটি একটি কুসংস্কার। এখন পর্যন্ত আনারস ও দুধের মধ্যে এমন কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া খুঁজে পাওয়া যায়নি যার ফলে এদের একসঙ্গে খেলে সেটা মানুষের জীবনহানি করবে। বর্তমানে অনেক খাবারেই দুধ ও আনারস একসঙ্গে মেশানো হয় এবং সারা বিশ্বেই তা খাওয়া হয়। কোনো গ্যাস্ট্রিকের রোগী যদি খালি পেটে আনারসের সঙ্গে দুধ খান, তাহলে তার পেটে প্রচণ্ড ব্যথার ‘ফুড ট্যাবু’র উদ্ভব হতে পারে। রক্ত তরল করার জন্য যে ওষুধ বানানো হয় তাতে আনারস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ফল দেহে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান করে থাকে। তাই যাদের আনারস খেলে এসব সমস্যায় ভোগেন তারা অবশ্যই আনারস থেকে দূরে থাকবেন। আনারস একটি অ্যাসিটিক এবং টকজাতীয় ফল। দুধের মধ্যে যে কোনো টকজাতীয় জিনিস দিলে দুধ ছানা হয়ে বা ফেটে যেতে পারে। ফলে হতে পারে বদহজম, পেটফাঁপা বা পেট খারাপের মতো সমস্যা। তবে এতে বিষক্রিয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।