জেনে নিন প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ৭ উপকারিতা

জেনে নিন প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ৭ উপকারিতা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Dulal

একটি জনপ্রিয় দুগ্ধজাত খাবার টক দই ল্যাকটোব্যাসিলাস বুলগারিকাস ও স্ট্রেপ্টোকক্কাস থার্মোফিলাসের মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে দুধ গাঁজন করে তৈরি করা হয়। এই প্রাকৃতিক গাঁজন প্রক্রিয়ায় দুধ পরিণত হয় প্রোবায়োটিক, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ও হালকা টক স্বাদের খাদ্যে। নিয়মিত টক দই খেলে শরীর নানামুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা পায়। নিচে টক দইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

১. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
টক দই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ফলে হৃদ্‌রোগ ও অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি কমে। নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দইয়ের মতো গাঁজানো দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা কমে।

২. হাড় ও দাঁত মজবুত করে
দই ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এই দুটি খনিজ হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং দাঁত সুস্থ ও শক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দইয়ে থাকা এসব খনিজ অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক কঙ্কালতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।

৩. ওজন কমাতে সাহায্য করে
জার্নাল অব ওবেসিটি অ্যান্ড মেটাবলিক সিনড্রোমসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। দইয়ে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় দই অন্তর্ভুক্ত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

৪. হজমশক্তির উন্নতি ঘটায়
দই প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োম হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে। দই নিয়মিত খেলে পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো সমস্যা কমতে পারে।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। এগুলো অ্যান্টিবডি তৈরিতে সহায়তা করে এবং ইমিউন কোষকে শক্তিশালী করে, ফলে শরীর সহজেই সংক্রমণ ও রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। নিয়মিত দই খেলে অসুস্থতার ঝুঁকি কমে এবং শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও দৃঢ় হয়।

৬. চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
দইয়ে থাকা প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে। নিয়মিত দই খেলে চুল পড়া কমে, মাথার ত্বক পুষ্টি পায় এবং চুলের গঠন আরও শক্ত ও উজ্জ্বল হয়। স্বাস্থ্যকর চুল বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে দই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৭. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
দইয়ের প্রোটিন ও চর্বি কার্বোহাইড্রেটের হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে দই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, টক দই শুধু একটি সুস্বাদু খাবার নয়, বরং এটি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার মতো একটি অত্যন্ত উপকারী পুষ্টিকর খাদ্য। নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে রাখে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত।

 

ডিএম/এআই


সম্পর্কিত নিউজ