প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া? সাধারণ সমস্যা নাকি জটিল ইনফেকশন জানুন!

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া? সাধারণ সমস্যা নাকি জটিল ইনফেকশন জানুন!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আমাদের শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সামান্যতম বিচ্যুতিও যখন বড় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার অন্যতম উদাহরণ হলো মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI)। এটি এমন এক অস্বস্তিকর সমস্যা, যা নিয়ে আমাদের সমাজে অনেকেই মুখ খুলতে দ্বিধা বোধ করে থাকেন। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই সংক্রমণের শিকার হোন। শুধু নারী নয়, পুরুষ এবং শিশুরাও এই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ভুগতে পারে। সঠিক সময়ে গুরুত্ব না দিলে সাধারণ এই সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে সৃষ্টি করতে পারে দীর্ঘমেয়াদী কোনো জটিলতা।

UTI-এর প্রধান কারণ:
☞  সবচেয়ে সাধারণ হলো Escherichia coli (E. coli), যা প্রধানত Large intestine-এ থাকে।

☞  টয়লেট ব্যবহার বা পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা ঠিকমতো না রাখাও একটি কারণ।

☞ পানি কম খাওয়া। পর্যাপ্ত পানি না খেলে মূত্রবিসর্জন কম হয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়।

☞ ইউরোজেনিটাল সমস্যা, যেমন- কিডনি পাথর, মূত্রনালির ক্ষত বা অন্য কোনো বাধা।

☞ হরমোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের মাসিক, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে UTI-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

UTI-এর সাধারণ লক্ষণ:

⇨ ঘন ঘন মূত্রত্যাগের অনুভূতি

⇨ মূত্রে জ্বালা বা ব্যথা

⇨ মূত্রে রঙ পরিবর্তন বা দুর্গন্ধ

⇨ নিম্ন পিঠ বা পেটের নীচে ব্যথা

⇨ উচ্চ তাপমাত্রা বা অস্থিরতা (কিডনি সংক্রমণে)

ঝুঁকি এবং জটিলতা:
UTI সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসায় সাড়া দেয়। তবে অবহেলা বা সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি কিডনি সংক্রমণ  বা মূত্রনালিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে ফেলতে পারে। বিশেষ করে বারবার UTI হলে দীর্ঘমেয়াদি কিডনির ক্ষতি, প্রজনন সমস্যা এবং জীবনের মান হ্রাসের সম্ভাবনাও থাকে।

প্রতিরোধ ও সমাধান:
⇨ পর্যাপ্ত পানি পান করা। দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত

⇨ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। টয়লেট ব্যবহার পর পরিষ্কার থাকা।

⇨ সঠিক প্রস্রাব শৃঙ্খলা মেনে চলা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাব ধরে রাখা থেকে বিরত থাকা।

⇨ উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহন করা।

⇨ সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা।

মহিলাদের মূত্রনালির দৈর্ঘ্য স্বল্প হওয়ায় ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশের ঝুঁকি পুরুষদের চেয়ে বেশি। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে UTI নির্ণয় ও চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রি-টার্ম জন্ম ও অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। পুনরাবৃত্ত UTI হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ডায়াগনস্টিক টেস্ট যেমন মূত্র কালচার করা খুবই জরুরি।

UTI শুধুই অস্বস্তিকর নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার সূচক হতে পারে। সময়মতো সনাক্তকরণ, পরিচ্ছন্নতা, পানি খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ইত্যাদি সব মিলিয়ে সমস্যাটিকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।


সম্পর্কিত নিউজ