রোজহিপ অয়েল: ব্রণের দাগ ও স্ট্রেচ মার্ক কমাতে কার্যকর ব্যবহারপদ্ধতি

রোজহিপ অয়েল: ব্রণের দাগ ও স্ট্রেচ মার্ক কমাতে কার্যকর ব্যবহারপদ্ধতি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

বড় বড় তারকাদের নিখুঁত ত্বকের রহস্য খুঁজতে গেলে প্রায়শই একটি তেলের নাম ঘুরেফিরে আসে। কোনো জটিল কেমিক্যাল পিল নয়, বরং বুনো গোলাপের বীজ থেকে নিংড়ে নেওয়া এই নির্যাসই নাকি তাদের ত্বকের দাগহীন উজ্জ্বলতার চাবিকাঠি। কিন্তু সাধারণ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সাথে এর পার্থক্য কোথায়? কেনই বা এটি ত্বকে মাখলে চটচটে ভাব হয় না, বরং শুষে যায় চোখের পলকে? দাগ কমানোর এই প্রাচীন পদ্ধতির ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জানলে উপকারের চেয়ে অপকারই বা কতটুকু তা নিয়েই আমাদের আজকের বিশেষ এই বিশ্লেষণ।

রোজহিপ অয়েল কী?
রোজহিপ অয়েল আসে বুনো গোলাপের ফলের বীজ থেকে, বিশেষ করে Rosa canina প্রজাতি থেকে। গোলাপ ফুল ঝরে যাওয়ার পর যে লালচে ফল তৈরি হয়, সেটিই মূলত রোজহিপ। এই ফলের বীজ ঠান্ডা পদ্ধতিতে চাপ দিয়ে তেল বের করা হয়, যাতে পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। এটি সাধারণ সুগন্ধি গোলাপ তেল নয়, বরং একটি ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিনসমৃদ্ধ ত্বক-পুষ্টিকারী তেল।

কেন স্কার ও দাগ কমাতে এটি এতটা আলোচনায় এসেছে?
রোজহিপ অয়েলের কার্যকারিতার পেছনে রয়েছে এর রাসায়নিক গঠন। এতে থাকে ভিটামিন A (রেটিনয়েড-জাতীয় উপাদান), ভিটামিন C, লিনোলিক ও লিনোলেনিক অ্যাসিড (Essential fatty acids), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো ত্বকের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।

রেটিনয়েড-জাতীয় উপাদান ত্বকের কোষ পুনর্গঠনের গতি বাড়াতে সহায়তা করতে সক্ষম। ফলে পুরনো, ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ধীরে ধীরে ঝরে গিয়ে নতুন কোষ উঠে আসে। এতে ব্রণের দাগ বা হালকা স্কার সময়ের সাথে সাথে ফিকে হতে পারে।

ভিটামিন C কোলাজেন সংশ্লেষে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোলাজেন হলো সেই প্রোটিন যা ত্বককে টানটান ও স্থিতিস্থাপক রাখে। স্কার এলাকায় কোলাজেনের ভারসাম্য ঠিক থাকলে ত্বকের টেক্সচার কিছুটা উন্নত হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রণের পর যে লালচে বা গাঢ় দাগ থেকে যায়, তা অনেক সময় প্রদাহ-পরবর্তী রঙের পরিবর্তন। নিয়মিত ব্যবহারে এই ধরনের দাগ কিছুটা হালকা হতে পারে।

স্কারযুক্ত ত্বক প্রায়ই শুষ্ক ও রুক্ষ হয়। রোজহিপ অয়েলের ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের লিপিড ব্যারিয়ার শক্তিশালী করতে সহায়তা করে, ফলে ত্বক মসৃণ দেখায়।

কোন ধরনের দাগে বেশি উপকারী?
☞ ব্রণের পর হালকা দাগ

☞ সূর্যের ক্ষতিজনিত রঙের তারতম্য

☞ ছোটখাটো কাটাছেঁড়ার চিহ্ন

☞ হালকা স্ট্রেচ মার্ক

তবে গভীর গর্তের মতো অ্যাট্রফিক স্কার বা কেলয়েড স্কারে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে লেজার, মাইক্রোনিডলিং বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?
১. মুখ পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন।

২. ২-৩ ফোঁটা রোজহিপ অয়েল হাতে নিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন।

৩. সাধারণত রাতে ব্যবহার করা ভালো।

৪. দিনে ব্যবহার করলে সানস্ক্রিন অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে।

ধারাবাহিকভাবে অন্তত ৬-৮ সপ্তাহ ব্যবহার করলে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।

সতর্কতা:
সংবেদনশীল ত্বকে প্রথমে প্যাচ টেস্ট করে দেখুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে অল্প পরিমাণ ব্যবহার করুন। এটি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন রেটিনয়েডের বিকল্প নয়। গর্ভাবস্থায় ভিটামিন A-জাতীয় উপাদান ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রোজহিপ অয়েল স্কার পুরোপুরি মুছে ফেলবে, এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়। তবে ত্বকের টেক্সচার, রঙের অসমতা ও শুষ্কতা উন্নত করতে এটি সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ এটি একটি সহায়ক যত্নপদ্ধতি, অলৌকিক সমাধান নয়।ত্বকের যত্নে ধারাবাহিকতা, সান প্রোটেকশন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, এসবই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রোজহিপ অয়েল  সঠিক প্রত্যাশা ও নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ ও স্কার হালকা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বক একটি জীবন্ত অঙ্গ। তাকে সময় দিতে হয়।


সম্পর্কিত নিউজ