{{ news.section.title }}
হুমুস ট্রেন্ড: কাবুলি ছোলার পুষ্টিগুণে কেন মাতছে বিশ্ব?
বিশ্বজুড়ে পাল্টাচ্ছে খাদ্যাভ্যাস। লাল মাংসের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আর প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে মানুষ এখন প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে এক প্রাচীন কিন্তু অথচ আধুনিক খাবার। নাম তার হুমুস। মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী এই ছোলার পেস্ট এখন শুধু আরবের গণ্ডির ভিতরই সীমাবদ্ধ নেই। এর পুষ্টিগুণ ও স্বাদের কারণে এটি এখন বৈশ্বিক সুপারফুড।
আরবি ভাষায় 'হুমুস' শব্দের অর্থ হলো ছোলা। লেবানন, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী পদটি তৈরি হয় সেদ্ধ ছোলা, তাহিনি (তিলের পেস্ট), এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেল, রসুন ও লেবুর রস, মাত্র পাঁচটি প্রধান উপাদানে। কিন্তু এই সরল উপাদানের মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রোটিন ও শক্তির এক অসাধারণ রসায়ন। এতে কোনো কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ না থাকায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
১০০ গ্রাম সেদ্ধ ছোলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, যা আমাদের পেশি গঠন ও কোষ মেরামতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ভেজান বা নিরামিষভোজীদের জন্য এটি মাংসের সেরা বিকল্প।
তাহিনির তিল এবং জলপাই তেলের মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। হুমুসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশ কম। এতে থাকা জটিল শর্করা ও আঁশ রক্তে চিনির মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।
ছোলার প্রিবায়োটিক আঁশ পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়, যা হজম ক্ষমতা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
নিখুঁত হুমুস তৈরির কৌশল:
অনেকেই বাড়িতে হুমুস তৈরি করেন, কিন্তু রেস্তোরাঁর মতো সিল্কি-স্মুথ টেক্সচারটা পান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে ছোট এক কৌশল। তা হলো -
প্রথমে তাহিনি ও লেবুর রস আলাদাভাবে ব্লেন্ড করে হালকা ও ফেনিল করে নিলে, এটিই হুমুসের ক্রিমিনেস বাড়ায়।
ব্লেন্ড করার সময় সামান্য বরফঠান্ডা পানি বা ছোলার সেদ্ধ পানি যোগ করলে তা স্টার্চকে হালকা করে ফোমি টেক্সচার তৈরি করে।
আর একটু সময় নিয়ে ছোলার পাতলা খোসা ছাড়িয়ে নিলে হুমুস হবে অবিশ্বাস্য ধরনের মসৃণ।
কীভাবে খাবেন?
হুমুস সাধারণত পিতা রুটি, চাপাটি কিংবা সালাদ বোলের ড্রেসিং হিসেবে দারুণ লাগে। এছাড়া গাজর, শসা বা ক্যাপসিকাম স্টিকের সঙ্গে এটি বিকেলের স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবেও বেশ অতুলনীয়।
সতর্কতা!
হুমুস অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর হলেও এতে জলপাই তেল ও তাহিনির কারণে ক্যালোরি বেশি থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। এছাড়া সংরক্ষণের জন্য এটি সবসময় এয়ারটাইট কন্টেইনারে ফ্রিজে রাখা উচিত।