{{ news.section.title }}
রমজানে ক্লান্তি কমাতে নারীদের করণীয় কী কী জেনে নিন!
রমজানকে অনেকেই শুধু রোজার মাস হিসেবে দেখেন। কিন্তু নারীদের জন্য এই সময়টা আরও বড় একটি বাস্তবতা ইবাদতের পাশাপাশি সংসার, সন্তান, রান্নাঘর ও দৈনন্দিন কাজ একসঙ্গে সামলাতে হয়। তাই রোজা সুন্দরভাবে আদায় করতে এবং দায়িত্বগুলো স্বস্তিতে করতে শরীর–মন দুটোই ভালো রাখার পরিকল্পনা জরুরি। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই ক্লান্তি কমে, মেজাজ স্থির থাকে এবং ইবাদতও মনোযোগ দিয়ে করা যায়।
খাবার পরিকল্পনায় শক্তি ও পুষ্টি দুটোই দরকার
রমজানে শক্তি ধরে রাখার মূল জায়গা হলো সাহরি ও ইফতার। শুধু পেট ভরা নয় এখানে লক্ষ্য হবে পানি, প্রোটিন, ফাইবার ও সহজ হজম হয় এমন খাবারের ভারসাম্য।
ইফতার
ইফতারের শুরুতে খেজুর, মৌসুমি ফল বা হালকা কিছু খেলে শরীর দ্রুত এনার্জি পায়। এরপর পানি ধীরে ধীরে পান করা ভালো। অনেকের ক্ষেত্রে খুব তেলঝাল/ভাজা দিয়ে ইফতার শুরু করলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও অস্বস্তি বাড়ে। তাই ইফতারে হালকা স্যুপ, সালাদ, ফল বা ডালজাতীয় আইটেম রাখলে হজম সহজ হয়। পরে ভাত/রুটি/চিড়া-জাতীয় কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে ডিম, মাছ, দুধ বা হালকা মুরগির মতো প্রোটিন রাখলে শরীর দীর্ঘ সময় শক্তি পায়। অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রসেসড খাবার বারবার খেলে পানিশূন্যতা, ওজন বাড়া এবং অস্বস্তি সবই বাড়তে পারে।
সাহরি
সাহরিতে এমন খাবার দরকার যা ধীরে ধীরে শক্তি ছাড়ে যাতে দিনের বেলায় দুর্বলতা কম হয়। ওটস/দানা/ভাত-রুটির সঙ্গে ডিম/দুধ/ডাল/মাছের মতো প্রোটিন এবং শাকসবজি রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। খুব বেশি তেলযুক্ত বা অতিরিক্ত মিষ্ট খাবার খেলে শরীর ভারী লাগে এবং তৃষ্ণা বেড়ে যেতে পারে। সাহরির পর একটুখানি সময় শান্তভাবে বসে থাকা বা হালকা বিশ্রাম নেওয়াও কাজে দেয়।
পানি সবচেয়ে অবহেলিত কিন্তু সবচেয়ে জরুরি
দিনে পানি পান করা না যাওয়ায় রমজানে অনেক নারীর মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। সমাধান হলো ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পানি ভাগ করে পান করা। একবারে বেশি না খেয়ে ধীরে ধীরে পান করলে শরীর ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। চা-কফি বেশি হলে কারও কারও ডিহাইড্রেশন বাড়তে পারে, তাই পরিমিত রাখাই ভালো।
হালকা ব্যায়াম শরীরও ভালো, মনও ভালো
রমজানে ভারী ব্যায়াম সবার জন্য মানানসই নাও হতে পারে বিশেষ করে যাদের সারাদিন ঘরের কাজ বা অফিসের চাপ থাকে। কিন্তু একেবারে নড়াচড়া না করলে শরীর আরও জড়তা অনুভব করতে পারে।
হালকা হাঁটা, স্ট্রেচিং, কিংবা সহজ যোগব্যায়াম এগুলো শরীর সতেজ রাখে এবং মুডও ভালো করে। সময় হিসেবে অনেকের জন্য ইফতারের পরে বা দিনের একদম শেষ ভাগ সবচেয়ে আরামদায়ক। এতে ঘুমও তুলনামূলক ভালো হয়।
ঘুম ও বিশ্রাম রুটিন ভাঙলেও ব্যালান্স রাখা যায়
সাহরি ও তারাবির কারণে ঘুমের সময়সূচি বদলে যায় এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কম ঘুম হলে ক্লান্তি, রাগ, মাথাব্যথা ও মনোযোগের সমস্যা বাড়তে পারে। চেষ্টা করুন রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়ার, আর প্রয়োজন হলে দিনে ২০–৩০ মিনিটের ছোট বিশ্রাম যোগ করার।
ঘুমের মান ভালো করতে ঘরের আলো-শব্দ কমানো, ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম কমানো এবং আরামদায়ক পরিবেশ রাখা সাহায্য করে।
মানসিক শান্তি ও আত্মিক প্রশান্তি রমজানের বড় অর্জন
রমজান শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার সময় নয় এটা ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ ও আত্মশুদ্ধির মাস। দায়িত্ব ও ইবাদতের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গেলে চাপ আসতেই পারে। তাই নিজের জন্য ছোট ছোট “ব্রেক” রাখা জরুরি কয়েক মিনিট নীরব থাকা, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ধ্যান, অথবা প্রিয়জনের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
সব কাজ একা টানতে গিয়ে অস্থিরতা বাড়লে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগাভাগি করাও বাস্তবসম্মত সমাধান।
শরীরের পরিবর্তন বুঝে সতর্ক থাকা
রমজানে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্র, হরমোনাল ওঠানামা বা আগে থেকে থাকা কিছু স্বাস্থ্যসমস্যা (যেমন গ্যাস্ট্রিক, মাইগ্রেন, রক্তশূন্যতা) বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। লক্ষণ বেশি হলে খাবার–পানি–বিশ্রামে বাড়তি নজর দেওয়া দরকার। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
দ্রুত অনুসরণযোগ্য চেকলিস্ট (কম সময়ে কাজ দেবে)
ইফতার
- খেজুর/ফল + পানি
- হালকা স্যুপ/সালাদ
- প্রোটিন (ডিম/মাছ/দুধ/ডাল/হালকা মুরগি)
- অতিরিক্ত ভাজা-ঝাল-মিষ্টি কম
সাহরি
- ধীরে হজম হয় এমন খাবার + প্রোটিন
- কম চিনি, কম তেল
- সাহরির পর অল্প বিশ্রাম
রুটিন
- ইফতারের পরে ১৫–৩০ মিনিট হাঁটা/স্ট্রেচিং
- দিনে ২০–৩০ মিনিট পাওয়ার ন্যাপ
- কাজ ভাগাভাগি, নিজের জন্য ছোট বিরতি
রমজানে নারীর জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার চাবিকাঠি
রমজান মাসে সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে নারীর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস মেনে চলা প্রয়োজন। শুধুমাত্র রোজা রাখা নয়, বরং শরীর ও মনকে সজীব রাখা এই সময়ের মূল লক্ষ্য।
১. সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত জলপান
শরীরের শক্তি ধরে রাখতে এবং ডিহাইড্রেশন এড়াতে সুষম খাবার অপরিহার্য। ফল, শাকসবজি, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি নেয়া শরীরকে কার্যক্ষম রাখে।
২. নড়াচড়া এবং বিশ্রামের সঠিক সমন্বয়
হালকা যোগব্যায়াম, হাঁটা বা স্ট্রেচিং শরীরকে সতেজ রাখে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম নিশ্চিত করলে ক্লান্তি দূর হয় এবং প্রতিদিনের কাজ সহজ হয়।
৩. মানসিক ভারসাম্য ও আত্মশুদ্ধি
ইবাদত, ধ্যান বা প্রার্থনা নারীর মনের প্রশান্তি বৃদ্ধি করে। পরিবার ও নিজস্ব জীবনে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে মানসিক ভারসাম্য অপরিহার্য।
৪. সামাজিক সংযোগ ও আনন্দ
পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো, হাসি-মজার মুহূর্ত শেয়ার করা নারীর মানসিক স্বাস্থ্যকে আরও শক্তিশালী করে।
৫. নিজেকে বুঝে চলা
শরীর ও মনের সীমা বোঝা, অতিরিক্ত চাপ এড়ানো এবং নিজের জন্য সময় রাখা এগুলো রমজানের সময় নারীর সুস্থতা নিশ্চিত করে।
রমজান: সুস্থ দেহ, সতেজ মন, এবং আনন্দময় পরিবার
যদি এই মূল বিষয়গুলো মেনে চলা যায়, রমজান শুধু ইবাদতের মাস নয়, বরং নারীর জন্য স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি এবং পরিবারের সুখ নিশ্চিত করার সময় হয়ে ওঠে। সুস্থ দেহে সুস্থ মন থাকলে প্রতিটি কাজ সহজ, প্রতিটি সম্পর্ক আরও মধুর এবং প্রতিটি মুহূর্ত আরও অর্থবহ হয়।