{{ news.section.title }}
প্রচণ্ড গরমে যে কারণে অচেতন হয়ে পড়তে পারেন
তাপপ্রবাহের দিনে শরীর শুধু “গরম লাগে”-এখানেই থেমে থাকে না। বেশি গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (ঘাম, রক্তপ্রবাহ, শ্বাস-প্রশ্বাস) দ্রুত চাপের মুখে পড়ে। এর ফল হতে পারে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, চোখে অন্ধকার দেখা-এবং শেষ পর্যন্ত অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
যারা বাইরে কাজ করেন, রোদে হাঁটেন, রিকশা/ড্রাইভিং করেন, খেলাধুলা বা ব্যায়াম করেন-তাদের ঝুঁকি সাধারণত বেশি। তবে ঘরের ভেতরেও বাতাস চলাচল না থাকলে, ঘেমে ভেজা শরীর নিয়ে হঠাৎ ঠান্ডা জায়গায় ঢুকলে বা পর্যাপ্ত খাবার-ঘুম না হলে সমস্যাটা বাড়তে পারে।
গরমে অচেতন হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ দুটি হলো ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) এবং তাপঘাত/হিট স্ট্রোক। শরীর অতিরিক্ত ঘামলে শুধু পানি নয়, লবণ-খনিজও বেরিয়ে যায়। পানি ও লবণের ঘাটতি হলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে কমতে পারে-তখনই মাথা ঘোরে, দুর্বল লাগে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দনের গতি অস্বাভাবিক বেড়ে যায় বা কখনও কমে যায়-এটাও অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, অ্যাজমা/সিওপিডি, কিডনি সমস্যা বা দীর্ঘদিনের অসুস্থতা থাকলে গরমে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে-তাই সতর্কতা আরও জরুরি।
অজ্ঞান হওয়ার আগে শরীর যে “সতর্ক সংকেত” দেয়
প্রচণ্ড গরমে অজ্ঞান হওয়া সাধারণত হঠাৎ করে “এক লাফে” হয় না। বেশির ভাগ সময় শরীর কয়েক ধাপে সংকেত দেয়। শুরুতে অস্বস্তি, অকারণ দুর্বলতা, বেশি ঘাম, বুক ধড়ফড় বা শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। তারপর মাথাব্যথা, ঝিমুনি, বমি ভাব, শরীর কাঁপা, চোখে অন্ধকার দেখা-এগুলো দেখা দেয়। কেউ কেউ অস্বাভাবিকভাবে কথা বলেন, এলোমেলো আচরণ করেন, ঠিকমতো দাঁড়াতে পারেন না। এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা করলে হিট এক্সহস্টশন থেকে হিট স্ট্রোকের দিকে যেতে পারে-যেটা জরুরি চিকিৎসা ছাড়া বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
গরমে রোগ-বালাই কেন বাড়ে
তীব্র গরমে শুধু তাপঘাতই নয়, পানিবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগও বাড়ে। কারণ মানুষ পিপাসায় যে পানি সামনে পায় তা খেয়ে ফেলে, খাবার দ্রুত নষ্ট হয়, রাস্তার শরবত/বরফ/খোলা পানি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এ সময় ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো সমস্যা বাড়ার প্রবণতা থাকে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম-তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। আবার অতিরিক্ত গরম থেকে হঠাৎ এসি রুমে ঢুকে খুব ঠান্ডা পানি/ঠান্ডা বাতাসে থাকলেও গলা ব্যথা, কাশি, জ্বর-এসব হতে পারে, কারণ শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বদলে গেলে শ্বাসনালী সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
রোজার সময় গরমে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে
রোজায় গরমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো-দিনে পানি পান করা যায় না, অথচ ঘামের মাধ্যমে পানি-লবণ কমে যায়। তাই লক্ষ্য হবে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমানো, কিন্তু সেটা করতে হবে সেহরি ও ইফতারের সময়কে কাজে লাগিয়ে, আর দিনের বেলা আচরণগত সতর্কতা মেনে।
সেহরিতে শুধু “এক গ্লাস পানি” না-বরং ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি নেওয়া দরকার। সেহরির শেষ দিকে হঠাৎ খুব বেশি পানি খেলে অনেকের অস্বস্তি হয়; তার চেয়ে সেহরি শুরুর পর থেকেই অল্প অল্প করে পানি নেওয়া ভালো। ইফতারের পরও একবারে অনেক পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে ভাগ করে খাওয়া উপকারী। তীব্র গরমে নোনতা-ঝাল-ভাজাপোড়া বেশি হলে পিপাসা বাড়ে এবং শরীর আরও পানিশূন্য হতে চায়-তাই রোজার দিনে এসব কমিয়ে রাখলে দিনটা তুলনামূলক সহজ যায়।
দিনের বেলা সবচেয়ে কার্যকর কাজ হলো রোদ ও গরমের সরাসরি এক্সপোজার এড়ানো। খুব প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের তীব্র রোদে বের না হওয়া, ছায়া ধরে হাঁটা, মাথায় ছাতা/ক্যাপ ব্যবহার করা এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা-এগুলো গরমের ধাক্কা অনেক কমায়। কর্মস্থলে থাকলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, জানালার পর্দা টেনে রাখা, সরাসরি রোদের তাপ ঘরে ঢোকা কমানো-এসবও কাজ করে। ঘেমে গেলে কাপড় ভিজে থাকে-এ অবস্থায় ঠান্ডা এসি রুমে দীর্ঘক্ষণ বসলে শরীর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে, তাই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা ভালো।
রোজায় কারও যদি মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা-এসব শুরু হয়, সেটাকে “সহ্য করে নেওয়ার” বিষয় ভাবা ঠিক নয়। কারণ গরমের কারণে রক্তচাপ পড়ে গেলে বা হিট এক্সহস্টশন হলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা খারাপ হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগ আছে-তাদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। নিয়মিত ওষুধ যারা খান, তাদের ক্ষেত্রে গরমে শরীরের প্রতিক্রিয়া বদলাতে পারে-তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলাই নিরাপদ।
কাউকে গরমে অসুস্থ/অচেতন হতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন
প্রথম কাজ হলো তাকে দ্রুত ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত জায়গায় নেওয়া। রোদে দাঁড় করিয়ে পানি খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট করা ঠিক নয়। তাকে শুইয়ে দিন, আর যদি সম্ভব হয় তাহলে পা একটু উঁচু করে দিন-এতে মাথায় রক্তপ্রবাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। গলার কাছে বা বুকে আঁটসাঁট জামা থাকলে ঢিল করে দিন, বাতাস লাগার ব্যবস্থা করুন। ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন, বিশেষ করে ঘাড়, বগল, কপাল-এ জায়গাগুলো ঠান্ডা করলে তাপ কমতে সুবিধা হয়।
ব্যক্তি যদি সম্পূর্ণ সচেতন থাকেন এবং গিলতে পারেন, তখন ধীরে ধীরে পানি বা পানিশূন্যতা দূর করার পানীয় দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কেউ যদি আধা-অচেতন থাকেন, কথা এলোমেলো বলেন, খিঁচুনি হয়, ঘাম বন্ধ হয়ে যায় বা শরীর খুব গরম হয়ে ওঠে-এটা হিট স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। তখন দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। ৩০ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে এটাকে গুরুতর ধরে নেওয়াই নিরাপদ।
সংক্ষিপ্ত সতর্কতা: কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
প্রচণ্ড গরমে সবাই কষ্ট পেলেও কিছু মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন-বয়স্ক, শিশু, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস/হৃদরোগ/উচ্চ রক্তচাপ/কিডনি রোগী, অ্যাজমা-সিওপিডি রোগী এবং যারা দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করেন। এদের ক্ষেত্রে “হালকা মাথা ঘোরা”ও অনেক সময় বড় সমস্যার শুরু হতে পারে। তাই গরমের দিনে রুটিনটা একটু বদলানো-কাজ কমানো, দুপুরে বিশ্রাম, রোদ এড়ানো, হালকা খাবার-এই ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।
গরমে বাঁচার মূল কথা
তীব্র গরমে অচেতন হওয়া বা হিট স্ট্রোক-দুটোরই মূল শিকড় এক জায়গায়: শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া। আপনি যদি রোদ এড়ান, শরীর ঠান্ডা রাখেন, ঘামের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন (রোজায় সেটা সেহরি-ইফতারে), আর বিপদের লক্ষণ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন-তাহলে গরমের বড় ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চাইলে আপনি যে ভঙ্গিতে পোস্ট করেন (খবর/ফিচার/সতর্কতা বার্তা)-সেই অনুযায়ী আমি এটাকে আরও “নিউজ-স্টাইলে” করে, একদম শুরুর লিড এবং শেষে ছোট্ট “করণীয়” অংশ রেখে চূড়ান্ত ফরম্যাটে সাজিয়ে দিতে পারি।