ইফতারে এক গ্লাসই যথেষ্ট! ঢাকার বিখ্যাত মহব্বতের শরবত রেসেপি!

ইফতারে এক গ্লাসই যথেষ্ট! ঢাকার বিখ্যাত মহব্বতের শরবত রেসেপি!
ছবির ক্যাপশান, ইফতারে এক গ্লাসই যথেষ্ট! ঢাকার বিখ্যাত মহব্বতের শরবত রেসেপি!

পুরান ঢাকার সরু অলিগলি পেরিয়ে যার রাজকীয় স্বাদ এখন প্রায় সবার ড্রয়িং রুমেই, তার নাম 'মহব্বতের শরবত'। ইফতারের মেনুতে ভাজাপোড়ার ভিড়ে এক গ্লাস গোলাপি আভা যেন চোখের শান্তি সাথে পেটেরও আরাম। তরমুজ আর দুধের অনন্য এক মিশ্রণ যেন রোজাদারদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে। ঘরোয়া আড্ডায় বা ইফতার মাহফিলে আভিজাত্য যোগ করতে কীভাবে তৈরি করবেন এই পানীয়? জেনে নিন বিস্তারিত আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে।

খাবার বা পানীয় যখন কেবল উদরপূর্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে মনের ওপরও প্রভাব ফেলে, তখন তাকে আমরা কমফোর্ট ফুড বা কমফোর্ট ড্রিঙ্কস্ব বলি। মহব্বতের শরবত ঠিক তেমনই একটি উপাদান। দিল্লির জামে মসজিদ এলাকা থেকে জনপ্রিয় হওয়া এই পানীয়টির মূল বিশেষত্ব হলো এর রঙ এবং এর শীতল করার অতুলনীয় ক্ষমতা। লাল তরমুজ আর গোলাপের সিরাপের মিশ্রণে যে গোলাপী আভা তৈরি হয়, তা আমাদের চোখের রেটিনায় এক ধরনের স্নিগ্ধ অনুভূতির সংকেত পাঠায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এই নির্দিষ্ট রঙটি মানুষের মনকে শান্ত করতে এবং তৃপ্তির হরমোন 'ডোপামিন' নিঃসরণেও সহায়তা করে!

 

উপকরণ:

☞ তরল দুধ। 

☞ তরমুজ। 

☞  রূহ আফজা বা গোলাপের সিরাপ।

☞  চিনি বা সুগার সিরাপ।

☞ বরফ কুচি।

 

প্রস্তুত প্রণালী: 

এই শরবতটি তৈরি করা যতটা সহজ, এর স্বাদ নিখুঁত করা ঠিক ততটাই মুন্সিয়ানার কাজ। নিচে এক লিটার দুধের হিসেবে বিস্তারিত পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
 

☞ সবার আগে ভালো মানের ফুল ক্রিম দুধ ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। মনে রাখবেন, সরাসরি কাঁচা দুধে শরবত বানালে তাতে ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি থাকে এবং স্বাদও হালকা হয়। দুধ জ্বাল দেওয়ার সময় তাতে সামান্য এলাচ দিতে পারেন ঘ্রাণের জন্য, তবে এটি ঐচ্ছিক। দুধ ফুটে ওঠার পর তা রুম টেম্পারেচারে ঠান্ডা হতে দিন এবং এরপর কমপক্ষে ৩-৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে একদম কনকনে ঠান্ডা করে নিন। মহব্বতের শরবতের প্রধান শর্তই হলো এর তাপমাত্রা।

 

☞ এই শরবতের প্রাণ হলো তরমুজের ছোট ছোট কুচি। তরমুজের লাল অংশটিকে খুব সূক্ষ্মভাবে কিউব করে কাটতে হবে। খেয়াল রাখবেন, তরমুজের ভেতরের কালো বীজগুলো যেন অবশ্যই ফেলে দেওয়া হয়। কারণ চুমুক দেওয়ার সময় দাঁতের নিচে বীজের কণা পড়লে স্বাদের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। তরমুজ কাটার পর সেগুলোও একটি পাত্রে নিয়ে ১০-১৫ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রাখুন।
 

☞ ফ্রিজ থেকে বের করা ঠান্ডা দুধ একটি বড় পাত্রে নিয়ে এতে স্বাদমতো চিনি যোগ করুন। তবে সরাসরি চিনির বদলে 'সুগার সিরাপ' (চিনি ও পানি ফুটিয়ে তৈরি করা তরল) ব্যবহার করলে তা দ্রুত মিশে যায়। এরপর এতে যোগ করুন গোলাপের সিরাপ বা রূহ আফজা। যতক্ষণ না দুধের রঙটি একটি হালকা লালচে-গোলাপী ধারণ করছে ততক্ষন রূহ আফজা মিশিয়ে নিন। খুব বেশি সিরাপ দিলে গোলাপের কড়া গন্ধে তরমুজের স্বাদ ঢাকা পড়ে যেতে পারে, তাই পরিমাণের দিকে লক্ষ্য রাখুন।
 

☞ এবার মিশ্রিত দুধের মধ্যে আগে থেকে কেটে রাখা ঠান্ডা তরমুজের টুকরোগুলো ঢেলে দিন। হালকা হাতে নাড়াচাড়া করুন যাতে তরমুজের কিউবগুলো ভেঙে না যায়। সবশেষে দিন প্রচুর পরিমাণে বরফ কুচি। বরফের বড় টুকরোর চেয়ে ক্রাশ করা বা কুচি করা বরফ এই শরবতের টেক্সচারকে আরও উন্নত করে।

 

আমরা যখন প্রচণ্ড গরমে বা দীর্ঘ ক্লান্তির পর এই শরবতটি পান করি, তখন আমাদের শরীরে তাৎক্ষণিকই কিছু পরিবর্তন ঘটে। 

তরমুজে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া লবণের অভাব পূরণ করে। দুধের ল্যাকটোজ এবং তরমুজের আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে ধীরস্থিরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে, যা পেট ঠান্ডা রাখে। এর মিষ্টি স্বাদ শরীরের কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

 

পরিবেশন :

একটি সুন্দর কাঁচের গ্লাসে শরবতটি ঢালুন। গ্লাসের ওপর দিয়ে সামান্য আরও কিছু তরমুজের কুচি এবং এক চিমটি গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দিন। চাইলে গ্লাসের কিনারে একটি পাতলা তরমুজের স্লাইস গেঁথে দিতে পারেন। মনে রাখবেন, মানুষ প্রথমে চোখ দিয়ে খাবার খায়, তারপর মুখ দিয়ে। তাই সুন্দর পরিবেশন আপনার এই 'মহব্বতের শরবত'কে সাধারণ পানীয় থেকে একটি রাজকীয় অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করতে সক্ষম।


সম্পর্কিত নিউজ