{{ news.section.title }}
হাতের মেহেদি রক্তলাল ও স্থায়ী করতে চাইলে কাজে লাগান এই জাদুকরী ট্রিকস!
ঈদের সকালে নতুন জামার সাথে মেয়েদের জন্য গাঢ় লাল মেহেদি রাঙানো হাত যেন আভিজাত্যেরই প্রতীক। কিন্তু অনেকেই বাজারের কেমিক্যাল যুক্ত মেহেদি ব্যবহার না করে নিজের গাছের পাতা বাটা মেহেদী দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে থাকেন। পাতা বাটা মেহেদি ব্যবহারের পর রঙটি ফ্যাকাশে হওয়ার দুশ্চিন্তাও থাকে তাদের অনেকের মনেই। আজকের প্রতিবেদনে থাকছে ঈদের এক বিশেষ টিপস, যা আপনার সাধারণ মেহেদি পাতাকেও দেবে আলতা রাঙা আভা।
গাছের মেহেদি পাতা বা 'Lawsonia inermis' এর প্রধান উপাদান হলো লসোন অণু। এই অণুগুলো গাছের পাতায় সুপ্ত অবস্থায় থাকে। যখন আমরা পাতাগুলোকে পিষি, তখন কোষগুলো ভেঙে যায় এবং এই রঞ্জক মুক্ত হয়। তবে বাতাসের অক্সিজেন আর আমাদের গায়ের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে এই রঙ ঠিক কতটা গাঢ় হবে। বিজ্ঞানের ভাষায়, এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় 'অক্সিডেশন'। রঙ যত বেশি জারিত হবে, হাত হবে তত বেশি লাল। কিন্তু সামান্য কিছু ভুলের কারণে এই প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নিখুঁত রঙের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি।
পাতা বাছাই ও বাটার কৌশল:
একটি ভালো রঙের শুরু হয় সঠিক পাতা বাছাই থেকেই। মেহেদি গাছের একদম ডগার কচি পাতা ব্যবহার না করে একটু নিচের দিকের গাঢ় সবুজ বা তামাটে রঙের পুরানো পাতা বেছে নিন। কচি পাতায় পানির পরিমাণ বেশি থাকে কিন্তু রঞ্জক পদার্থ কম থাকে। পুরানো পাতায় লসোনের ঘনত্ব থাকে অনেক বেশি।
পাতা যত মিহি করে বাটা হবে, রঞ্জক কণাগুলো তত সহজে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারবে। বাটার সময় শিল পাটায় সামান্য লেবুর রস বা একটু চা পাতা ভেজানো পানি ব্যবহার করলে রঙের উজ্জ্বলতা বহুগুণে বেড়ে যায়।
আপনার হাতের মেহেদি যেন সবার নজর কাড়ে, সেজন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন-
☞ অ্যাসিডিক মিডিয়ামের(লেবুর রস ও চিনি) ব্যবহার করুন। মেহেদির পেস্ট তৈরি করার সময় তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড মেহেদির রঞ্জক পদার্থকে পাতা থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করে। এছাড়া মিশ্রণে সামান্য চিনি যোগ করলে পেস্টটি আঠালো হয় এবং দীর্ঘক্ষণ ত্বকের সংস্পর্শে থাকে, যা রঙ শোষণে সাহায্য করে।
☞ চা-পাতায় থাকে ট্যানিন, যা প্রাকৃতিক ডাই বা রঙ হিসেবে কাজ করে। মেহেদি বাটার সময় সাধারণ পানির বদলে কড়া করে ফোটানো চা পাতা বা কফির লিকার ব্যবহার করুন। এটি মেহেদির লাল রঙের সাথে একটি খয়েরি আভা যোগ করে, ফলে রঙটি দেখতে আরও গাঢ় ও গভীর হয়।
☞ ইউক্যালিপটাস বা লবঙ্গ তেল ব্যবহার করতে পারেন। মেহেদি লাগানোর আগে হাত ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর হাতে সামান্য ইউক্যালিপটাস তেল বা লবঙ্গ তেল মেখে নিন। এই তেলগুলো ত্বকের রোমকূপ উন্মুক্ত করে এবং মেহেদির রঞ্জককে চামড়ার গভীরে টেনে নিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এটি রঙের স্থায়িত্ব বাড়াতে অতুলনীয়।
☞ লবঙ্গের ধোঁয়া দিতে পারেন। এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। মেহেদি কিছুটা শুকিয়ে এলে একটি তাওয়ায় ৫-৬টি লবঙ্গ গরম করুন। লবঙ্গ থেকে যখন ধোঁয়া বের হতে শুরু করবে, তখন সাবধানে সেই ধোঁয়ার ওপর আপনার হাত ধরুন। লবঙ্গের তেলের বাষ্প এবং তাপ মেহেদির রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে রঙকে অনেক বেশি ডার্ক বা কালচে লাল করে তোলে।
☞ পানি থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। মেহেদি তুলে ফেলার পর অন্তত ১০-১২ ঘণ্টা হাতে পানি লাগাবেন না। মেহেদি তুলে ফেলার পর রঙটি প্রথমে একটু কমলা দেখায়, যা পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে গাঢ় লাল বা খয়েরি হয়। পানি লাগালে এই অক্সিডেশন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। পানি ব্যবহারের বদলে সরিষার তেল মেখে রাখুন, যা তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
সতর্কতা:
অনেকে মনে করেন ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে হাত ধুলে রঙ ভালো হবে, যা সম্পূর্ণ ভুল। সাবানের ক্ষারীয় উপাদান মেহেদির রঙকে ফিকে করে ফেলে। এছাড়া যদি অ্যালার্জি থাকে তবে খুব বেশি সময় ধরে, যেমন সারারাত মেহেদি লাগিয়ে রাখা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মেহেদি শুকিয়ে ঝরঝরে হয়ে গেলে নিজে থেকেই তুলে ফেলা উত্তম।