{{ news.section.title }}
ভারতে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
ভারতে চলতি মাসে তৃতীয় দফায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভর্তুকি চাপ সামাল দিতে না পারায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট ডিলার ও বিশ্লেষকরা। নতুন এই সিদ্ধান্তে দেশটির জ্বালানি বাজারে আবারও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির পর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৫১ রুপি। একই সময়ে ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯২ দশমিক ৪৯ রুপি প্রতি লিটার। এই দফার সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি মে মাসে টানা তিনবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো, যার ফলে সামগ্রিকভাবে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ৫ রুপি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারত সরকার সাধারণত জ্বালানি খুচরা বাজারে সরাসরি মূল্য নির্ধারণে হস্তক্ষেপ না করলেও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো-যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম-আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত দামের সমন্বয় করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বৈশ্বিক বাজারে ওঠানামা করলেও মোটামুটি উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে, যা ভারতীয় কোম্পানিগুলোর আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
চলতি মাসে ধারাবাহিক তিন দফা মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতে জ্বালানির দাম মোটামুটি ৫ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই বৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন খরচ, নিত্যপণ্যের দাম এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য পরিবহন ও কৃষি খাতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই বাজারে দেখা যায়।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির খুচরা মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। এর প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, গত কয়েক মাস ধরে সরকার ভর্তুকির চাপ বাড়তে থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর লাভজনকতা কমে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে খুচরা দামে ধাপে ধাপে সমন্বয় আনা হচ্ছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য, ডলারের বিপরীতে রুপির মান এবং আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি-এই তিনটি বিষয় মিলেই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে।
গত ১৫ মে ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধিকে ভারতের গত চার বছরের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের জ্বালানি মূল্য সমন্বয় হিসেবে দেখা হয়। এরপর থেকে কয়েক দফায় আরও সমন্বয় আনা হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় মে মাসের শেষ দিকে এসে তৃতীয় দফা বৃদ্ধি কার্যকর হলো। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল রাখা দাম একসঙ্গে কয়েক দফায় সমন্বয় করায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি বর্তমান উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতেও ভারতে জ্বালানির দামে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে। এর ফলে শুধু পরিবহন খাত নয়, শিল্প উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের বাজারেও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে কিছু রাজ্যে বাসভাড়া ও পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘমেয়াদে কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ টেকসই নয়। তাই ধাপে ধাপে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করছে, মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে এবং সরকারের উচিত ছিল আরও কার্যকর ভর্তুকি নীতি গ্রহণ করা।
সব মিলিয়ে, চলতি মাসে টানা তিন দফা জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স