{{ news.section.title }}
নতুন দামে আজ কিনতে হবে স্বর্ণ, ভরি কত?
দেশের বাজারে টানা তিন দফায় কমেছে সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা, স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনা বা তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সবশেষ তিন দফা সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম মোট ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে স্বর্ণ ক্রেতাদের মধ্যে।
বুধবার (২০ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন দর ঘোষণা করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। যা একইদিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণের দামে ওঠানামার প্রভাবও দেশের বাজারে পড়েছে। একইসঙ্গে দেশে ডলার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় আমদানিনির্ভর স্বর্ণ বাজারেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত ১৬ মে ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। তার আগেও আরেক দফা কমানো হয়েছিল দাম। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে টানা তিনবার কমলো সোনার মূল্য।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে দেশের স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কখনো আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি, আবার কখনো ডলারের বিনিময় হার ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন সমন্বয় করতে হচ্ছে বাজুসকে। তবে সাম্প্রতিক এই দরপতনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে অনেকেই গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন। তাদের জন্য এই দাম কমা ইতিবাচক খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফেরেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও দামের পরিবর্তন হলে দেশের বাজারেও নতুন করে সমন্বয় আসতে পারে। কারণ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় তেজাবি সোনার দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ৩১ বার কমেছে। অর্থাৎ পুরো বছরজুড়েই সোনার বাজারে ছিল বড় ধরনের অস্থিরতা।
অন্যদিকে ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যায়। ওই বছর মোট ৯৩ বার সোনার দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
এদিকে সোনার দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম মোট ৩৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ বার দাম বেড়েছে এবং ১৮ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল মোট ১৩ বার। তখন ১০ বার দাম বাড়লেও কমেছিল মাত্র ৩ বার।
স্বর্ণ ও রুপার বাজারে ঘন ঘন এই মূল্য পরিবর্তনের কারণে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনগুলোতে দেশের বাজারে সোনার দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে।