{{ news.section.title }}
বায়ুদূষণে আজ ৭ম ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি
বিশ্বের বিভিন্ন শহরে নানা কারণে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন, ইটভাটা, বর্জ্য পোড়ানো এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে মেগাসিটি ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের কবলে। বুধবার তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো থাকলেও বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ঢাকার বায়ুমান আবারও অবনতি হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই সূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ১১৫। এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বায়ু ‘সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বা সতর্কতামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান ১২৭ শহরের তালিকায় এ সময় ঢাকা ছিল ৭ম অবস্থানে। আগের দিন বুধবার একই তালিকায় ঢাকা ছিল ১৭তম স্থানে, আর একিউআই স্কোর ছিল ৯৩-যা ‘মধ্যম’ পর্যায়ের বায়ু হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
আইকিউএয়ারের তালিকা অনুযায়ী, একই সময়ে দূষিত বাতাসের শহরের শীর্ষে ছিল ভারতের দিল্লি। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৬৩, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের। ১৪৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল নেপালের কাঠমাণ্ডু। এরপর তালিকায় ছিল সৌদি আরবের রিয়াদ, চিলির সান্তিয়াগো, চীনের সাংহাই ও ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। আইকিউএয়ারের লাইভ সূচক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়; তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে অবস্থান ও স্কোর ওঠানামা করতে পারে।
একিউআই সূচক মূলত বাতাসে দূষণের মাত্রা বোঝানোর একটি মানদণ্ড। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারেন, নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত এবং তা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না। সূচক অনুযায়ী, বায়ুর মান ০ থেকে ৫০ হলে ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মধ্যম’, ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সে হিসাবে ঢাকার ১১৫ স্কোর সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ না হলেও শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, হাঁপানি, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ বা ফুসফুসের রোগে আক্রান্তদের জন্য সতর্কতার বার্তা বহন করে। এ ধরনের মানুষদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, ব্যস্ত সড়কের পাশে হাঁটা বা ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো সূক্ষ্ম বস্তুকণা বা পিএম২.৫। এই অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তপ্রবাহেও মিশে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে পিএম২.৫–এর সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শিশুদের ফুসফুসের বিকাশে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ঘরের ভেতর ও বাইরের বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ মৌসুমভেদে ওঠানামা করলেও এটি এখন বছরজুড়েই জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের ধুলা, সড়কের ধুলাবালি ও ইটভাটার ধোঁয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ করে। বর্ষা বা বাতাসের গতি বেশি থাকলে দূষণ কিছুটা কমলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য উৎস নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
ঢাকার দূষণ কমাতে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানো, পুরোনো ও ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন উন্নত করা, ইটভাটায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার, শিল্পকারখানার নির্গমন মনিটরিং, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ এবং শহরে সবুজায়ন বাড়ানো।
এদিকে নাগরিক পর্যায়ে সতর্কতা হিসেবে বাইরে বের হলে মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার, শিশু ও বয়স্কদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া কমানো, ব্যস্ত সড়কে হাঁটা বা ব্যায়াম এড়িয়ে চলা, ঘরের জানালা খোলার সময় বায়ুমান দেখে নেওয়া এবং ঘরের ভেতর ধুলা কমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে, তাদের ইনহেলার বা প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত।