{{ news.section.title }}
পৃথিবীর সব চাওয়ার ঊর্ধ্বে যে চাওয়া- আল্লাহর ভালোবাসা লাভের দোয়া
মানুষের জীবন চাওয়া-পাওয়ার এক দীর্ঘ গল্প। প্রতিটি মানুষই প্রতিদিন কোনো না কোনো কিছুর জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তোলে। কেউ জীবিকার প্রশস্ততা চায়, কেউ সুস্বাস্থ্য, কেউ চায় সম্মান, সফলতা, সুখী পরিবার কিংবা দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন। এসব চাওয়া মানুষের স্বাভাবিক চাওয়া, ইসলামও বৈধ প্রয়োজনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু এমন একটি চাওয়া আছে, যা অর্জিত হলে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণ যেন একসঙ্গে ধরা দেয়। আর সেটি হলো- আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা লাভ।
একজন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ধন-সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা খ্যাতি নয়; বরং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাতারে স্থান পাওয়া। কারণ আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তার জীবন বরকতময় হয়ে ওঠে, তার আমল কবুল হয়, বিপদে তিনি আল্লাহর বিশেষ সাহায্য লাভ করেন এবং আখিরাতে তার জন্য অপেক্ষা করে চিরস্থায়ী জান্নাতের সুখ।
ইসলামের ইতিহাসে নবী-রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং পরবর্তী যুগের মনীষীরা কখনো দুনিয়ার চাকচিক্যকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করেননি। তাদের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল- আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কারণ তারা জানতেন, আল্লাহ সন্তুষ্ট হলে পৃথিবীর সব প্রাপ্তিই অর্থবহ হয়ে ওঠে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ
অর্থ: ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (সুরা আত-তাওবা : আয়াত ৭২)
তাফসিরে ইবনু কাছীর (রহ.) লিখেছেন, জান্নাতের অসংখ্য নেয়ামতের চেয়েও বড় নেয়ামত হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। কারণ আল্লাহ যখন তাঁর বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তখন আর কখনো তার ওপর অসন্তুষ্ট হন না। এটাই একজন মুমিনের সর্বোচ্চ সফলতা।
এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু দুনিয়ার প্রয়োজনের জন্য নয়, বরং আল্লাহর ভালোবাসা লাভের জন্যও বিশেষ দোয়া করতেন এবং উম্মতকে সেই দোয়া শিখিয়ে গেছেন।
আল্লাহর ভালোবাসা কেন সবচেয়ে বড় নিয়ামত?
মানুষের ভালোবাসা পরিবর্তনশীল। আজ যে ভালোবাসে, কাল সে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা এমন এক নেয়ামত, যা কখনো ধ্বংস হয় না। আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তার জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন, আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসতে শুরু করে এবং পৃথিবীতেও তার গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাদারিজুস সালিকীন’-এ লিখেছেন, ‘আল্লাহর ভালোবাসা এমন এক মর্যাদা, যার জন্য প্রতিযোগিতা করেন আল্লাহর নেক বান্দারা। এটি এমন এক পথ, যার দিকে ছুটে যান আল্লাহর নৈকট্যপ্রত্যাশীরা। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করে, সে প্রকৃত সফলতা অর্জন করে।’
তিনি আরও বলেন, মানুষের অন্তরের প্রকৃত প্রশান্তি ধন-সম্পদ বা মানুষের প্রশংসায় নয়; বরং আল্লাহর ভালোবাসা ও তাঁর স্মরণে নিহিত।
পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তাআলা বলেন-
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
অর্থ: ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি।’ (সুরা আর-রা'দ : আয়াত ২৮)
আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের দোয়া
আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের জন্য সবচেয়ে সুন্দর দোয়াগুলোর একটি আমাদের শিখিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। এই দোয়ায় একজন মুমিন শুধু আল্লাহর ভালোবাসাই চান না; বরং এমন মানুষদের ভালোবাসাও চান, যারা আল্লাহকে ভালোবাসেন এবং এমন আমলের তাওফিক চান, যা তাকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ، وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَالْعَمَلَ الَّذِي يُبَلِّغُنِي حُبَّكَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাকা, ওয়া হুব্বা মাই-ইউহিব্বুকা, ওয়াল-'আমালাল্লাজি ইউবাল্লিগুনি হুব্বাকা।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার ভালোবাসা চাই, যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা চাই এবং এমন কাজের প্রতি ভালোবাসা চাই, যা আমাকে আপনার ভালোবাসার কাছে পৌঁছে দেয়।’ (তিরমিজি ৩২৩৫)
এই দোয়ার প্রতিটি বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে একজন মুমিনের জীবনের পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা। প্রথমে আল্লাহর ভালোবাসা, এরপর আল্লাহপ্রেমিকদের সান্নিধ্য এবং সর্বশেষ এমন আমলের তাওফিক-যে আমল মানুষকে আল্লাহর কাছে প্রিয় করে তোলে।
আল্লাহর প্রিয় মানুষদের সঙ্গ কেন প্রয়োজন?
মানুষ স্বভাবতই তার সঙ্গীর প্রভাবে বদলে যায়। নেককার মানুষের সান্নিধ্য একজন মুমিনের ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে সাহায্য করে। তাই এই দোয়ায় আল্লাহপ্রেমিকদের ভালোবাসাও চাওয়া হয়েছে।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন, নেককার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক মানুষকে নেক আমলের দিকে উৎসাহিত করে এবং গুনাহ থেকে দূরে রাখে। তাই সৎ মানুষের সঙ্গ নিজেই একটি বড় নিয়ামত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন-
الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ
অর্থ: ‘মানুষ তার সঙ্গেই থাকবে, যাকে সে ভালোবাসে।’ (সহিহ বুখারি, ৬১৬৮; সহিহ মুসলিম, ২৬৪০)
এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা কেবল একটি আবেগ নয়; বরং এটি আখিরাতের সফলতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আল্লাহ কাদের ভালোবাসেন?
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এটি একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কারণ আমরা যদি জানতে পারি আল্লাহ কাদের ভালোবাসেন, তাহলে সেই গুণগুলো নিজেদের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করতে পারব।
১. মুত্তাকীগণ
إِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৭৬)
মুত্তাকি সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহকে ভয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে সব ধরনের গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি শুধু মানুষের সামনে নয়, নির্জনেও আল্লাহকে স্মরণ করেন এবং হারাম থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।
২. সৎকর্মশীলগণ
إِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৫)
মুহসিন সেই ব্যক্তি, যিনি শুধু ইবাদতেই নয়; মানুষের সঙ্গে আচরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবার, প্রতিবেশী-সব ক্ষেত্রেই উৎকৃষ্ট চরিত্রের পরিচয় দেন।
৩. ধৈর্যশীলগণ
وَاللّٰهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ
‘আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৪৬)
বিপদে, কষ্টে কিংবা পরীক্ষার মুহূর্তে যারা আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করেন, তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হন।
৪. ন্যায়পরায়ণগণ
إِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-মায়েদা: আয়াত ৪২)
ইসলামে ন্যায়বিচার শুধু আদালতের জন্য নয়; বরং পরিবার, সমাজ, ব্যবসা, নেতৃত্ব-জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।
৫. তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীগণ
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২২২)
আল্লাহর দরবারে ফিরে আসার দরজা সবসময় খোলা। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তওবা করে এবং বাহ্যিক ও অন্তরের পবিত্রতা অর্জনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।
আল্লাহর ভালোবাসার প্রকৃত পরিচয়
অনেকেই মনে করেন, আল্লাহকে ভালোবাসা কেবল আবেগের বিষয়। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়, প্রকৃত ভালোবাসা কেবল মুখের দাবি নয়; বরং তা প্রকাশ পায় আনুগত্য, আত্মসমর্পণ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে। যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ মানে, হারাম থেকে নিজেকে দূরে রাখে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করে, তার ভালোবাসার দাবিই সত্য।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ কর; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৩১)
এই আয়াতকে অনেক আলেম ‘মাহাব্বাহর আয়াত’ বা ভালোবাসার আয়াত বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ এখানে আল্লাহর ভালোবাসা লাভের সবচেয়ে সহজ ও সুস্পষ্ট পথ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে- রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ।
তাফসিরে ইবনু কাছীর (রহ.) উল্লেখ করেন, যারা আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করে কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে না, তাদের দাবি পূর্ণাঙ্গ নয়। কারণ প্রকৃত ভালোবাসা আনুগত্যের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।
আল্লাহর ভালোবাসা লাভে নফল ইবাদতের গুরুত্ব
ফরজ ইবাদত একজন মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদত মানুষকে আল্লাহর আরও প্রিয় বানিয়ে তোলে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি কুদসি হাদিসে আল্লাহ তাআলার বাণী বর্ণনা করেছেন-
«وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ»
অর্থ: ‘আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, এমনকি আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।’ (সহিহ বুখারি, ৬৫০২)
ইমাম ইবনু রাজাব (রহ.) বলেন, এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ফরজ ইবাদতের পর নফল ইবাদতই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।
আল্লাহর প্রিয় হতে চাইলে হৃদয়কেও পবিত্র করতে হবে
ইসলামে শুধু বাহ্যিক আমলই যথেষ্ট নয়। অন্তরও হতে হবে অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, রিয়া ও কপটতা থেকে মুক্ত।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন,
"যে অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা প্রবেশ করে, সেই অন্তরে দুনিয়ার মোহ ধীরে ধীরে কমে যায়। তখন বান্দার সবচেয়ে বড় আনন্দ হয়ে ওঠে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।"
তিনি আরও বলেন, মানুষের হৃদয় যদি আল্লাহর স্মরণে জীবিত থাকে, তবে শয়তানের কুমন্ত্রণা সেখানে দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে না।
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, মানুষও তাদের ভালোবাসে
একজন মুমিনের জন্য এটি সবচেয়ে বড় সুসংবাদ যে, আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন, তখন সেই ভালোবাসা শুধু আসমানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পৃথিবীতেও তার গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبَّهُ
‘যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরিলকে ডেকে বলেন, ‘আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, তুমিও তাকে ভালোবাসো।’ এরপর আসমানবাসীদের মধ্যেও তার ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।’ (বুখারি ৩২০৯, মুসলিম ২৬৩৭)
এ হাদিস আমাদের শেখায়, মানুষের কাছে সম্মানিত হওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় মানুষের মন জয় করা নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
কীভাবে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা যায়?
আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের জন্য কেবল মুখে দোয়া করাই যথেষ্ট নয়; বরং জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে গড়ে তুলতে হবে।
কুরআনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা
প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত, অর্থ বোঝার চেষ্টা এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা একজন মুমিনকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।
ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল আমলের প্রতি যত্নশীল হওয়া
নফল নামাজ, নফল রোজা, তাহাজ্জুদ, দান-সদকা ও বিভিন্ন নেক আমল বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা
ভুল-ত্রুটি মানুষের স্বভাব। কিন্তু আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নাহকে অনুসরণ করাই আল্লাহর ভালোবাসা লাভের সবচেয়ে নিশ্চিত পথ।
আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালোবাসা
কোনো পার্থিব স্বার্থ নয়, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গোপনে নেক আমল করা
যে আমল শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, তার মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি।
দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা প্রার্থনা করা
নিয়মিত সেই দোয়াটি পড়া, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন।
দুনিয়ার ভালোবাসা নাকি আল্লাহর ভালোবাসা?
বর্তমান সময়ে মানুষ সামাজিক স্বীকৃতি, জনপ্রিয়তা ও মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য অনেক কিছু করে। কিন্তু একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি। কারণ মানুষের ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর ভালোবাসা চিরস্থায়ী।
হযরত হাসান আল-বাসরী (রহ.) বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে, সে তাঁকে ভালোবেসেছে। আর যে তাঁকে ভালোবেসেছে, তার কাছে দুনিয়া আর সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা থাকে না।"
আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হলে কী লাভ?
আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করলে বান্দার অন্তরে প্রশান্তি আসে। ইবাদত আর বোঝা মনে হয় না; বরং আনন্দে পরিণত হয়। গুনাহ থেকে দূরে থাকা সহজ হয়ে যায়। বিপদ-আপদেও ঈমান অটুট থাকে। মানুষ তাকে সম্মান করে এবং আখিরাতে সে মহান প্রতিদান লাভ করে।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন,
"আল্লাহর ভালোবাসার স্বাদ একবার যে হৃদয় আস্বাদন করেছে, তার কাছে পৃথিবীর কোনো ভোগ-বিলাস সেই স্বাদের সমান হতে পারে না।"
আমাদের প্রতিদিনের দোয়ায় থাকা উচিত এই আবেদন
আমরা জীবনে অসংখ্য জিনিসের জন্য দোয়া করি, কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবান দোয়াগুলোর একটি হলো-আল্লাহর ভালোবাসা লাভের দোয়া। কারণ আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হলে দুনিয়ার বিপদ সহজ হয়ে যায়, ইবাদতে স্বাদ আসে, অন্তর প্রশান্ত হয় এবং আখিরাতের সফলতা নিশ্চিত হয়। তাই আসুন, প্রতিদিনের দোয়ায় এই মহান আবেদনটি যোগ করি-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ، وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَالْعَمَلَ الَّذِي يُبَلِّغُنِي حُبَّكَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাকা, ওয়া হুব্বা মাই-ইউহিব্বুকা, ওয়াল-'আমালাল্লাজি ইউবাল্লিগুনি হুব্বাকা।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার ভালোবাসা চাই, আপনার প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা চাই এবং এমন আমলের তৌফিক চাই যা আমাকে আপনার ভালোবাসার কাছে পৌঁছে দেয়।’
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন জীবন দান করুন, যেখানে আমাদের প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ এবং প্রতিটি ইবাদত তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে। তিনি যেন আমাদের অন্তরকে তাঁর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে দেন, সুন্নাহর পথে অবিচল রাখেন এবং তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।