স্ত্রী সহবাসের দোয়া, ফজিলত ও গুরত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম

স্ত্রী সহবাসের দোয়া, ফজিলত ও গুরত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ
  • লেখক, রুবেল ইসলাম

ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক স্বামী-স্ত্রীর সহবাস কেবল জৈবিক চাহিদা পূরণ নয়, বরং এটি একটি ইবাদত এবং সওয়াবের কাজ। নিচে সহবাসের দোয়া ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম তুলে ধরা হলো

ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রীর মিলনের পূর্বে দুআ পড়া সুন্নাত, যা শয়তানের প্রভাব থেকে দম্পতি ও অনাগত সন্তানকে রক্ষা করে [৫, ৯]। সহবাসের আগে "বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাজাক্বতানা" পড়তে হয়, যার অর্থ- হে আল্লাহ, তোমার নামে আরম্ভ করছি, তুমি আমাদের কাছ থেকে শয়তানকে দূরে রাখ এবং আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে, তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ [১, ১১]। 

সহবাসের দোয়া

সহবাস শুরু করার আগে নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করা সুন্নত: 

আরবি:

بِسْمِ اللهِ ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

উচ্চারণ:

বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা, ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাজাক্বতানা। 

অর্থ:

আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যে সন্তান দান করবেন (এই মিলনের ফলে), তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন। 

স্ত্রী সহবাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম ও আদব:

  • দুআ পড়া: মিলনের শুরুতে (বিসমিল্লাহ বলে) উপরোক্ত দুআটি পড়া [১, ১১]।

  • পূর্ব প্রস্তুতি: পবিত্রতা অর্জন করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।

  • আদর-সোহাগ: সহবাসের আগে স্ত্রী-কে আদর-সোহাগ ও ভালোবাসার মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করে নেওয়া [১৩]।

  • পর্দা রক্ষা: সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে সহবাস না করা, চাদর বা কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে রাখা [৪]।

  • নিষিদ্ধ সময়: ঋতুস্রাব (পিরিয়ড) বা প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাব চলাকালীন সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম [১৩]।

  • পদ্ধতি: যে কোনো উপায়ে মেলামেশা জায়েজ হলেও, পায়ুপথে বা অস্বাভাবিক উপায়ে সহবাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ [৪, ১৩]।

  • পরিচ্ছন্নতা: সহবাসের পর ফরজ গোসল করা। তবে, যদি পুনরায় সহবাস করার ইচ্ছা থাকে বা ঘুমিয়ে পড়তে হয়, তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই অন্তত অযু করে নেওয়া উত্তম [১৩]।

  • সতর্কতা: সহবাসের সময় শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচতে আল্লাহর স্মরণে থাকা [৯]। 

স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে দোয়া পড়বেন কেন?

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘যদি তোমাদের কেউ যদি স্ত্রী সহবাসের মনোবাসনায় বলে— بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا;  তাহলে তাদের ভাগ্যে যে সন্তান নির্ধারণ করা হয়, শয়তান কখনো তার ক্ষতি করবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৩৮৮; মুসলিম, হাদিস : ১৪৩৪)

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, ‘শয়তান তার ক্ষতি করবে না, এবং তার ওপর প্রভাব বিস্তার করতেও দেওয়া হবে না।’(বুখারি, হাদিস : ৩২৮৩)

এসব বর্ণনা প্রমাণ করে যে, সহবাসের সময় এ দোয়াটি পড়া সুন্নত। তাই যারা স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস মিলিত হবেন, তারা ওই সময়ে দোয়াটা পড়ে নেওয়া উত্তম। এতে আল্লাহ তাআলা অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন।

সহবাসের দোয়া পড়তে ভুলে গেলে

এ দোয়া যে পড়ে এবং পরবর্তীতে যাকে সন্তান দেওয়া হয়, তার জন্য এ হাদিসে ওয়াদা রয়েছে : “শয়তান তার ক্ষতি করবে না।” তবে যে এ দোয়া পড়তে ভুলে যায়, শয়তান তার সন্তানের অবশ্যই ক্ষতি করবে, এমন কিছু এ হাদিসে নেই। বরং তা কতক মনীষী থেকে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাই, আল্লাহ সন্তানকে শয়তান থেকে হিফাজত করবেন, এ আশায় নিয়মিত এ দোয়াটি পড়ে নেয়া জরুরি।

‘শয়তান ক্ষতি করতে পারবেনা’র ব্যখ্যা

উল্লেখিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শয়তান তার ক্ষতি করবে না’— (لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا ) এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, এ সন্তানটি নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হবে; যার ওপর শয়তানের কর্তৃত্ব থাকবে না।

আবার কেউ বলেছেন, শয়তান তাকে পরাস্ত করতে পারবে না। অথবা শয়তান তাকে কুফরির মাধ্যমে গোমরাহ করতে পারবে না।

কাজি আয়াজ (রহ.) বলেছেন, ‘তার ক্ষতি করতে পারবে না’ এর অর্থ কেউ বলেছেন- শয়তান তাকে পরাস্ত করতে পারবে না। কেউ বলেছেন, জন্মের সময় ও অন্যান্য সন্তানের বিপরীতে— শয়তান তাকে খোঁচা দেবে না।

তিনি আরও বলেন, তবে সব ধরনের ক্ষতি, শয়তানি ওয়াসওয়াসা ও পথভ্রষ্টতা থেকে সে সুরক্ষা পাবে— এ অর্থ কেউ করেন নি। (ইমাম নববি (রহ.) ‘সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যগ্রন্থে’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।)

ফজিলত

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ আপন স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা করে তখন ওই দোয়া পড়ে যেন মিলিত হয়। এ মিলনে যদি তাদের কিসমতে কোনো সন্তান আসে, সে সন্তানকে শয়তান কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)।

হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি সহবাসের ইচ্ছা করে, তার নিয়্ত যেন এমন হয়, আমি ব্যাভিচার থেকে দূরে থাকব। আমার মন এদিক ওদিক ছুটে বেড়াবে না আর জন্ম নেবে নেককার ও সৎ সন্তান। এই নিয়তে সহবাস করলে তাতে সওয়াব তো হবেই সঙ্গে সঙ্গে নেক উদ্দেশ্যও পূরণ হয়।


সম্পর্কিত নিউজ