{{ news.section.title }}
“লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”: অর্থ ও ফজিলত
“লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِٱللَّٰهِ) ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ফজিলতপূর্ণ একটি জিকির। একে সংক্ষেপে ‘হাওকালা’ বলা হয়।
"লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (لا حول ولا قوة إلا بالله) হলো জান্নাতের গুপ্তধন, যার অর্থ—"আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (গুনাহ থেকে বাঁচার) কোনো উপায় এবং (নেক কাজ করার) কোনো শক্তি নেই"। এটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও মানুষের অক্ষমতার স্বীকৃতি। এর অসামান্য ফজিলত রয়েছে, যেমন—জান্নাতের গুপ্তধন লাভ, বিপদ ও দুশ্চিন্তা মুক্তি, এবং শয়তান থেকে সুরক্ষা।
অর্থের বিস্তারিত ব্যাখ্যা
লা হাওলা: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ বা পাপ থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই।
ওয়ালা কুওয়াতা: আল্লাহর তাওফিক ছাড়া নেক কাজ বা ইবাদত করার কোনো শক্তি নেই।
ইল্লা বিল্লাহ: একমাত্র আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতেই সবকিছু সম্ভব।
ফজিলত ও গুরুত্ব
হাদিস শরিফে এই জিকিরের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে:
জান্নাতের গুপ্তধন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “এটি জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটি”।
৯৯টি রোগের ওষুধ: একটি দুর্বল সনদের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি পাঠ করলে ৯৯টি রোগ বা বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, যার মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি হলো দুশ্চিন্তা।
বিপদ ও দুশ্চিন্তা মুক্তি: কঠিন বিপদে বা মানসিক অস্থিরতার সময় এই জিকির পড়লে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য পাওয়া যায়।
শয়তান থেকে সুরক্ষা: ঘর থেকে বের হওয়ার সময় “বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” পড়লে ফেরেশতারা ওই ব্যক্তির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন এবং শয়তান তার থেকে দূরে থাকে।
আজানের জবাব: মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলেন, তখন জবাবে এটি পড়তে হয়।
কখন পড়বেন?
যেকোনো সময় এটি পড়া যায়, তবে বিশেষ কিছু মুহূর্তে এর গুরুত্ব বেশি:
বিপদ বা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে।
আজানের সময় হাইয়্যা আলাস সালাহ/ফালাহ শুনলে।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময়।
রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে।
সকাল-সন্ধ্যার জিকির হিসেবে।
এই জিকিরের মাধ্যমে বান্দা নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে, যা আত্মিক প্রশান্তি আনে।