{{ news.section.title }}
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন কখন পড়তে হয়
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" (إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّـا إِلَيْهِ رَاجِعونَ) হলো ইস্তিরজা, যা শুধু মৃত্যুর খবর শুনে নয়, বরং যেকোনো ছোট-বড় বিপদ, ক্ষতি বা কষ্টের সংবাদ পাওয়ার পরপরই পড়া সুন্নত। এর অর্থ—"নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে ফিরে যাব।
আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ (ইস্তিরজা) কেবল কারও মৃত্যুসংবাদ শুনলে পড়তে হয়। তবে কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী, এটি যেকোনো ধরণের বিপদ, কষ্ট বা দুঃসংবাদে পড়ার দোয়া।
এই দোয়া কখন পড়বেন?
কারও মৃত্যুসংবাদ শুনলে: এটি সবচেয়ে পরিচিত সময়, যখন আমরা বিদেহী আত্মার জন্য এবং শোক প্রকাশে এটি পড়ি।
যেকোনো শারীরিক বা মানসিক কষ্টে: অসুস্থতা, আঘাত পাওয়া বা মনের কোনো যন্ত্রণার সময় এটি পড়া সুন্নত।
আর্থিক বা বিষয়গত ক্ষতিতে: ব্যবসায় ক্ষতি, চাকরি হারানো বা কোনো প্রিয় জিনিস হারিয়ে গেলে।
অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে: পথে চলতে গিয়ে হোঁচট খাওয়া বা ঘরের বাতি নিভে যাওয়ার মতো ছোটখাটো অসুবিধাতেও রাসূলুল্লাহ (সা.) এটি পড়তেন।
বিপর্যয় বা দুর্ঘটনার সংবাদে: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড বা সড়ক দুর্ঘটনার খবর শুনলে।
দোয়ার অর্থ ও ফজিলত
অর্থ: "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী" (সূরা বাকারা: ১৫৬)।
ফজিলত: সহিহ মুসলিমের (হাদিস নং ৯১৮) বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো বিপদের সময় ধৈর্যের সাথে এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাআলা সেই বিপদের উত্তম প্রতিদান দেন এবং হারানো জিনিসের চেয়েও উত্তম বিকল্প দান করেন।
টিপস: বিপদ আসার সাথে সাথেই (বিপদের প্রথম ধাক্কায়) এটি পড়া সবচেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ।
বিপদের সময় এই দোয়ার সাথে আরও একটু বাড়িয়ে পড়া উত্তম:
"আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি, ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।"
(হে আল্লাহ! আমাকে আমার এই বিপদে প্রতিদান দিন এবং এর বিনিময়ে এর চেয়েও উত্তম কিছু দান করুন।)
কুরআন ও হাদিসের আলোকে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠের গুরুত্ব
কুরআন ও হাদিসের আলোকে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ (যা ‘ইস্তিরজা’ নামে পরিচিত) পাঠের গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
পবিত্র কুরআনের আলোকে
পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৫৫-১৫৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এই দোয়ার প্রেক্ষাপট এবং পাঠকারীর পুরস্কার সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।
বিপদের ঘোষণা: আল্লাহ বলেন, "আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা।"
ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ: "আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের, যাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে তারা বলে— ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।"
পুরস্কার: যারা বিপদে এই বাক্য পাঠ করে, আল্লাহ তাদের জন্য তিনটি বড় পুরস্কারের কথা বলেছেন:
১. তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়।
২. তারা আল্লাহর অনুকম্পা লাভ করে।
৩. তারাই মূলত সঠিক পথপ্রাপ্ত বা হেদায়েতপ্রাপ্ত।
হাদিসের আলোকে
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দোয়ার গুরুত্ব ও এর মাধ্যমে প্রাপ্ত নেয়ামত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণনা করেছেন।
উত্তম বিকল্প লাভ: উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বিপদে পড়ে যদি আল্লাহর নির্দেশিত এই দোয়াটি পড়ে, তবে আল্লাহ তাকে তার হারানো জিনিসের চেয়েও উত্তম কিছু দান করেন। (সহিহ মুসলিম)
জান্নাতে বিশেষ ঘর: হাদিসে এসেছে, কোনো ব্যক্তির সন্তান মারা গেলে সে যদি ধৈর্য ধরে ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়ে, তবে আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর তৈরি করতে, যার নাম রাখা হয় ‘বাইতুল হামদ’ (প্রশংসার ঘর)। (তিরমিজি)
ছোট বিপদেও পাঠ: নবী করীম (সা.) একবার প্রদীপ নিভে যাওয়ার পর এটি পাঠ করেছিলেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যা মুমিনকে কষ্ট দেয়, তাই বিপদ। অর্থাৎ ছোটখাটো সমস্যাতেও এটি পড়া সুন্নত।
বিপদের প্রথম মুহূর্ত: রাসূল (সা.) শিখিয়েছেন যে, বিপদের প্রথম ধাক্কাতেই (অর্থাৎ শোনার সাথে সাথেই) ধৈর্য ধারণ করা এবং এটি পাঠ করা প্রকৃত সবরের পরিচয়। (বুখারী)