{{ news.section.title }}
তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় ও কি ভাবে পড়া উচিৎ
তাহাজ্জুদ নামাজ এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত পড়া যায়, তবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (সাধারণত রাত ২টা থেকে ভোর পর্যন্ত) সময়টি সর্বোত্তম। কমপক্ষে ২ রাকাত থেকে সর্বোচ্চ ১২ রাকাত পর্যন্ত ২ রাকাত করে পড়া যায়। এটি একটি বিশেষ নফল ইবাদত যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায়।
তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময়, রাকাআত ও পড়ার নিয়ম নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
তাহাজ্জুদ নামাজের সময়
তাহাজ্জুদ শব্দের অর্থ হলো রাত জেগে ইবাদত করা। ইশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় এই নামাজ পড়া যায়। তবে এর জন্য কিছু বিশেষ নিয়ম ও উত্তম সময় রয়েছে:
উত্তম সময়: রাতের শেষ তৃতীয়াংশে (ফজরের আজানের প্রায় ১-১.৫ ঘণ্টা আগে) তাহাজ্জুদ পড়া সবচেয়ে বেশি সওয়াব ও মর্যাদাপূর্ণ।
ঘুম থেকে ওঠা: সাধারণত ইশার পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে রাত দ্বিপ্রহরের পর জেগে এই নামাজ আদায় করা সুন্নত। তবে কেউ যদি জেগে ওঠার ব্যাপারে নিশ্চিত না থাকেন, তবে ইশার পর বিতরের আগেই তা পড়ে নিতে পারেন, যদিও এটি সর্বোত্তম নয়。
সময় হিসাব করার নিয়ম: সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়কে তিন ভাগে ভাগ করলে শেষ ভাগটিই হলো তাহাজ্জুদের সেরা সময়।
নামাজের রাকাআত
তাহাজ্জুদ নামাজের নির্দিষ্ট কোনো রাকাআত সংখ্যা নেই, তবে এটি সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় (২ রাকাআত করে) পড়তে হয়:
সর্বনিম্ন: ২ রাকাআত।
সর্বোচ্চ: ৮ থেকে ১২ রাকাআত পর্যন্ত পড়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ পড়তেন।
তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম
তাহাজ্জুদ পড়ার আলাদা কোনো বিশেষ নিয়ম নেই; এটি অন্য সব নফল বা সুন্নত নামাজের মতোই পড়তে হয়:
নিয়ত: মনে মনে সংকল্প করলেই নিয়ত হয়ে যায়। যেমন— "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ২ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছি"।
সুরা পাঠ: প্রথম রাকাআতে সুরা ফাতিহার পর অন্য যেকোনো সুরা মেলানো যায়। তবে দীর্ঘ সুরা দিয়ে পড়া এবং ধীরস্থিরভাবে আদায় করা উত্তম।
সালাম ফেরানো: প্রতি ২ রাকাআত অন্তর সালাম ফেরাতে হয়।
বিতর নামাজ: যদি রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস থাকে, তবে রাতের শেষ নামাজ হিসেবে বিতর পড়া উত্তম। আর যদি আগেই বিতর পড়া হয়ে যায়, তবে তাহাজ্জুদের পর আর নতুন করে বিতর পড়ার প্রয়োজন নেই।
দোয়া ও মোনাজাত: নামাজের পর বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার এবং নিজের মনের চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরা উচিত, কারণ শেষ রাতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে তাহাজ্জুদ বা রাতের নামাজের অশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনের আলোকে তাহাজ্জুদের প্রধান কয়েকটি দিক হলো:
মর্যাদাপূর্ণ স্থান (মাকামে মাহমুদ) লাভ: আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লক্ষ্য করে বলেন, "রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করুন; এটি আপনার জন্য এক অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায়, আপনার পালনকর্তা আপনাকে 'মাকামে মাহমুদ' বা প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন।" [সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৭৯]
জান্নাতিদের বিশেষ গুণ: পবিত্র কোরআনে জান্নাতিদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, "তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমে অতিবাহিত করত এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করত।" [সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ১৭-১৮]
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য: সূরা আল-ফুরকানে ‘রাহমান’-এর প্রিয় বান্দাদের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, "এবং যারা তাদের পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত অতিবাহিত করে।" [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৪]
আত্মসংযমের কার্যকর মাধ্যম: রাতের ইবাদত মনকে শান্ত রাখে এবং একাগ্রতা তৈরিতে সাহায্য করে। আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই রাতে জেগে ওঠা আত্মসংযমের জন্য বেশি কার্যকর এবং স্পষ্ট কথা বলার (কোরআন পাঠের) জন্য অনুকূল সময়।" [সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত: ৬]
আল্লাহর নৈকট্য ও ভয়-ভক্তির প্রকাশ: যারা আরামের বিছানা ত্যাগ করে আল্লাহকে ডাকে, তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন, "তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে আলাদা থাকে; তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায়।" [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ১৬]