{{ news.section.title }}
সাইয়েদুল ইস্তিগফার কীভাবে করবেন
সাইয়েদুল ইস্তিগফার হলো মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া। দিনের বেলায় (সকালে) একবার এবং রাতের বেলায় (সন্ধ্যায়) একবার পূর্ণ মনোযোগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়া পাঠ করতে হয়
সাইয়েদুল ইস্তিগফার করার সঠিক নিয়ম হলো পূর্ণ বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের কথা স্বীকার করে নির্দিষ্ট দোয়াটি পাঠ করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটিকে ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
নিচে সাইয়েদুল ইস্তিগফার করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি, আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও আমলের সময় ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলো:
১. মানসিক প্রস্তুতি ও নিয়ম
আন্তরিকতা ও অনুশোচনা: দোয়াটি পড়ার সময় নিজের পাপের কথা মনে করে মনে মনে লজ্জা ও অনুশোচনা অনুভব করতে হবে।
পবিত্রতা: ওজু করে পাক-পবিত্র হয়ে কিবলামুখী হয়ে বসা উত্তম, তবে ওজু ছাড়াও এটি পাঠ করা যায়।
দৃঢ় বিশ্বাস: মনে পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ আমার তওবা কবুল করবেন এবং একমাত্র তিনিই গুনাহ মাফ করতে পারেন।
পাপ বর্জনের অঙ্গীকার: যে গুনাহের জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন, তা ভবিষ্যতে আর কখনো না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
২. সাইয়েদুল ইস্তিগফারের মূল দোয়া
উত্তম ফল পেতে দোয়াটির আরবি উচ্চারণ এবং এর অর্থ ভালোভাবে বুঝে পাঠ করা উচিত।
আরবি পাঠ:
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ لَكَ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ
বাংলা উচ্চারণ:
"আল্লাহুম্মা আন্তা রব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা; খলাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা, ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সনাতু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ লাকা বিজাম্বি; ফাগফির লি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ-জুনুবা ইল্লা আন্তা।"বাংলা অর্থ:
"হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার গোলাম। আর আমি আমার সাধ্যমতো আপনার সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও ওয়াদার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার ওপর আপনার যে নেয়ামত রয়েছে তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন; কারণ আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।"
৩. আমলের উপযুক্ত সময় ও ফজিলত
সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী এই দোয়াটি দৈনিক দুই বার পাঠ করার বিশেষ সুন্নত ও ফজিলত রয়েছে:
সকাল বেলা: ফজর সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে একবার পাঠ করবেন। সকালে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এটি পড়লে এবং সন্ধ্যার আগে মৃত্যু হলে ওই ব্যক্তি জান্নাতি হবেন।
সন্ধ্যা বেলা: আসর বা মাগরিব সালাতের পর থেকে রাতের যেকোনো সময়ে একবার পাঠ করবেন। রাতে এটি পড়ে সকালের আগে মারা গেলে ওই ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।