কখন পড়বেন এই দোয়া “লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন”

কখন পড়বেন এই দোয়া “লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন”
ছবির ক্যাপশান, জাগরণ ছবি

হজরত ইউনুস (আ.) ছিলেন একজন নবী। সুরা ইউনুস নামে পবিত্র কোরআনে স্বতন্ত্র একটি সুরা আছে। এই সুরায় তওহিদের প্রমাণ ও অংশীবাদের প্রতিবাদ রয়েছে। সুরাটিতে অবিশ্বাসীদের সম্বোধন করে তওহিদ, ওহি, নবুয়ত ও পরকালের সত্যতা ঘোষণা করা হয়েছে।

সুরা ইউনুস ছাড়াও কোরআনে আরও ছয়টি সুরায় হজরত ইউনুস (আ.) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। দুজন নবী মায়ের নামে পরিচিত হয়েছেন। একজন হজরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.), অন্যজন হজরত ইউনুস ইবনে মাত্তা (আ.)। মাত্তা হজরত ইউনুস (আ.)-এর মায়ের নাম। মায়ের নামেই তাঁকে ইউনুস ইবনে মাত্তা বলা হয়। কোরআনে তাঁকে তিনটি নামে উল্লেখ করা হয়েছে-ইউনুস, জুননুন ও সাহিবুল হুত। জুননুন ও সাহিবুল হুতের অর্থ মাছওয়ালা। মাছ–সংশ্লিষ্ট ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তাঁকে এ নামে ডাকা হয়েছে।

 

হজরত ইউনুস (আ.)-কে বর্তমান ইরাকের মসুল নগরীর কাছাকাছি নিনাওয়া জনপদে নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। সুরা সাফফাতের ১৪৭ আয়াতে এ নিয়ে আলোচনা আছে। তিনি মসুলবাসীকে আল্লাহর পথে ডাকলেন। আখিরাতের বিষয়ে সতর্ক করলেন। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁর কথা শোনেনি। নবী ইউনুস (আ.) তাদের ইমান নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লেন।

 

নিনাওয়ার ঘটনা ও আল্লাহর সিদ্ধান্ত

তিন দিনের মধ্যে আল্লাহর আজাব তাদের ওপর নিপতিত হচ্ছে ঘোষণা দিয়ে তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে গেলেন। কিন্তু এলাকা ছাড়ার ব্যাপারে তিনি আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা করেননি। আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা না করে তাঁর নিজে নিজে বের হয়ে যাওয়াটা আল্লাহর পছন্দ হয়নি। এ ধরনের বিচ্যুতিতে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

 

হজরত ইউনুস (আ.) এলাকা ছাড়ার পর লোকজন ভয় পেয়ে গেল যে এবার নিশ্চিত আল্লাহর আজাব চলে আসবে। তারা লোকালয় ছেড়ে বনবাদাড়ের দিকে চলে গেল। গবাদিপশু ও শিশুদেরও সঙ্গে নিল। সেখানে সবাই আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও ক্ষমা প্রার্থনা করল। তাদের তওবার কারণে আল্লাহ তাদের ওপর থেকে আজাব সরিয়ে নেন।

 

এলাকা ছাড়ার পর হজরত ইউনুস (আ.) ভাবলেন, তার সম্প্রদায় হয়তো আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি কল্পনাও করেননি যে তারা তওবা করে আল্লাহর প্রতি ইমান নিয়ে আসবে। তিনি যখন জানতে পারলেন, তারা সবাই ইমান নিয়ে এসেছে, একদিকে তিনি অবাক হলেন, অন্যদিকে ভীত হয়ে পড়লেন। এরপর তিনি দূর দেশে যাওয়ার জন্য নৌকায় চড়ে বসেন।

 

মাছের পেটের ঘটনা ও দোয়া ইউনুস

নৌকা মাঝনদীতে পৌঁছালে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। যাত্রীদের মধ্যে লটারি হলে প্রতিবারই হজরত ইউনুস (আ.)-এর নাম আসে। এরপর তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। একটি বিশাল মাছ তাঁকে গিলে ফেলে, তবে আল্লাহর নির্দেশে তাঁর কোনো ক্ষতি হয়নি।

 

মাছের পেটে তিনি দোয়া করেন, যা দোয়া ইউনুস নামে পরিচিত:

‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)

অর্থ: ‘হে আল্লাহ তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র মহান, আমি তো সীমালঙ্ঘনকারী।’

 

এই দোয়ার ফলে আল্লাহ তাঁকে মুক্তি দেন। কোরআনে বলা হয়েছে, যদি তিনি তাসবিহ না করতেন তবে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতেন (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১৪৩–১৪৪)। পরে আল্লাহ তাঁকে তীরে ফেলে দেন এবং তাঁর জন্য একটি লতাবিশিষ্ট গাছ সৃষ্টি করেন (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১৪৫–১৪৬)।

 

দোয়ার ফজিলত ও শিক্ষা

যেকোনো বিপদে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও আশ্রয় চাইতে হয়।

হজরত সাদ (রা.)-এর বরাতে একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুননুন ইউনুস (আ.) মাছের পেটে যে দোয়া করেছিলেন, তা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন’। কোনো মুসলমান যখনই এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)


সম্পর্কিত নিউজ