উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
ছবির ক্যাপশান, উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

মাঠে ফসল ভালো হয়েছে, কিন্তু বাজারে দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও অনেক সময় ফসল বিক্রি করতে হয় কম দামে। এতে লাভের বদলে লোকসানের মুখে পড়েন প্রান্তিক কৃষকেরা। কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ থেকে বাজার পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তারা ন্যায্য দাম পান না।

ধান, সবজি, আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে এখন খরচ অনেক বেড়েছে। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক মজুরি সবকিছুর দাম আগের তুলনায় বেশি। কিন্তু ফসল কাটার মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। তখন কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করেন।

 

অনেক কৃষক জানান, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় তারা ফসল ধরে রাখতে পারেন না। বিশেষ করে সবজি ও পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে দ্রুত বিক্রি না করলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এ সুযোগে পাইকাররা কম দামে পণ্য কিনে নেন। পরে শহরের বাজারে সেই পণ্য অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়।

 

কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে সরাসরি বাজার সংযোগ বাড়াতে হবে। কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা সহজ হলে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমবে। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ, সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি।

 

ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থাও কৃষকদের জন্য বড় সুযোগ হতে পারে। যদি কৃষকরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারেন, তাহলে তারা ভালো দাম পেতে পারেন। তবে এ জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তা দরকার।

 

কৃষকরা বলছেন, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর কথা বললেই হবে না, উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের ঘামেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টিকে আছে। তাই কৃষকের লাভ নিশ্চিত করাই কৃষি উন্নয়নের মূল শর্ত।


সম্পর্কিত নিউজ