জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে কৃষির ধরন, প্রস্তুতি জরুরি

জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে কৃষির ধরন, প্রস্তুতি জরুরি
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

বাংলাদেশের কৃষি দীর্ঘদিন ধরে আবহাওয়া ও ঋতুচক্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও লবণাক্ততার ধরন বদলে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদন, কৃষকের আয় এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।

আগে কৃষকরা মৌসুম ধরে ফসলের পরিকল্পনা করতেন। কোন সময় বৃষ্টি হবে, কখন জমি প্রস্তুত করতে হবে, কখন বীজ বপন করতে হবে, এসব বিষয়ে একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক ধারণা ছিল। এখন সেই হিসাব অনেক জায়গায় আর কাজ করছে না। কখনো অতিবৃষ্টি হচ্ছে, কখনো দীর্ঘ সময় বৃষ্টি নেই। কোথাও আগাম বন্যা, কোথাও দেরিতে পানি নামছে। এতে বীজ, সার, শ্রম ও সেচের খরচ বাড়ছে।

 

উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বড় সংকট তৈরি করছে। অনেক জমিতে আগের মতো ধান বা সবজি চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। আবার হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা কৃষকের বছরের প্রধান ফসল ঝুঁকিতে ফেলছে।

 

এই পরিস্থিতিতে কৃষিকে জলবায়ু সহনশীল করতে হবে। লবণসহনশীল ধান, খরাসহনশীল ফসল, স্বল্পমেয়াদি জাত, ভাসমান কৃষি, পানি সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ব্যবহার এবং সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পেতে হবে। কৃষকের কাছে আবহাওয়ার আগাম তথ্য পৌঁছানোও জরুরি।

 

কৃষি সম্প্রসারণ সেবাকে আরও সক্রিয় করতে হবে। শুধু পরামর্শ নয়, মাঠপর্যায়ে বাস্তব সহায়তা দরকার। কোন অঞ্চলে কোন ফসল উপযোগী, কোন সময়ে বপন ভালো, কীভাবে ক্ষতি কমানো যাবে, এসব তথ্য কৃষকের ভাষায় পৌঁছাতে হবে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন কৃষির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সময়মতো প্রস্তুতি নিলে ক্ষতি কমানো সম্ভব। কৃষককে একা লড়তে দিলে হবে না। গবেষণা, নীতি সহায়তা, প্রযুক্তি এবং মাঠপর্যায়ের সেবা একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


সম্পর্কিত নিউজ