ঈদের দিন কি বৃষ্টি হবে?

ঈদের দিন কি বৃষ্টি হবে?
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা কয়েক দিন ধরে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং এ পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন আরও চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময়ও দেশের বড় অংশজুড়ে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। ওই দিন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

 

এ ছাড়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এতে দিনের বেলা তুলনামূলক আরামদায়ক আবহাওয়া থাকলেও রাতের দিকে আর্দ্রতা কিছুটা বেশি অনুভূত হতে পারে।

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক সময় সংবাদকে জানান, আগামী শুক্রবার (২৯ মে) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

 

তিনি আরও জানান, জুন মাসের ১ থেকে ২ তারিখের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় নতুন পরিবর্তন আসতে পারে এবং বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করবে লঘুচাপটির গতিপথের ওপর। যদি এটি মিয়ানমারের দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে প্রধানত চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। আর যদি এটি বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এমন টানা বজ্রবৃষ্টি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক। তবে নদী, নিম্নাঞ্চল এবং শহরের কিছু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় খোলা জায়গায় অবস্থান না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে, কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বৃষ্টি একদিকে যেমন তাপমাত্রা কমিয়ে স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে ধান, সবজি ও মৌসুমি ফসলের কিছু ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ঝড়ো বাতাসের কারণে কাঁচা ফসল ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ