মাগুরায় ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫

মাগুরায় ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন-মো. সৌরভ (২১), অনিক (১৯), রানা বিশ্বাস (২০), নয়ন শেখ (১৯) এবং মো. হুসাইন (২০)। তারা সবাই মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন ও আরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার পর পাঁচ আসামিকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে প্রেমের প্রলোভন দেখানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ৪ মে সকালে শ্রীপুরের একটি এলাকা থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে কৌশলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ সময় আসামিরা মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরিবারের অভিযোগ, লোকলজ্জা, ভয় এবং আসামিদের হুমকির কারণে ভুক্তভোগী শুরুতে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। পরে ১৯ মে স্থানীয় একটি স্থানে কয়েকজনের মোবাইল ফোনে ফেসবুক, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখেন ভুক্তভোগীর এক আত্মীয়। এরপর তিনি দ্রুত ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরিবার জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী কান্নায় ভেঙে পড়ে ঘটনার কথা জানায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

ঘটনার বিস্তারিত জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ২২ মে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। প্রথম আলো জানায়, ভুক্তভোগীর মা ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন। প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে এজাহারভুক্ত পাঁচজনকেই গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যম।

 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলি মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা পোস্টের আগের প্রতিবেদনে ওসি তদন্ত মো. আতাউর রহমান বলেন, মামলার পর গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার বা শেয়ার করা নিজেই গুরুতর অপরাধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভিডিও দেখা, ফরোয়ার্ড করা বা সংরক্ষণ করা ভুক্তভোগীকে দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বিচারপ্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই এ ধরনের কোনো কনটেন্ট কারও কাছে এলে তা শেয়ার না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত।

 

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখা, চিকিৎসা সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, অপরিচিত বা সন্দেহজনক যোগাযোগ, প্রলোভন এবং ব্ল্যাকমেইল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

 

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ১০৯ এবং শিশু সহায়তার জন্য ১০৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। ১০৯ নম্বরটি নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার টোল-ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন হিসেবে চালু রয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে; আর ১০৯৮ শিশুদের জন্য সহায়তা ও পরামর্শ সেবা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অপসারণ এবং যারা তা শেয়ার করেছে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।


সম্পর্কিত নিউজ