৩ মিনিটের বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রীকে ৮৬ বার ‘স্যার’ বললেন কৃষি কর্মকর্তা

৩ মিনিটের বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রীকে ৮৬ বার ‘স্যার’ বললেন কৃষি কর্মকর্তা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে উদ্দেশ করে মাত্র তিন মিনিটের বক্তব্যে ৮৬ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করে আলোচনায় এসেছেন সিলেট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল। বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে বহুমুখী সরকারি অনুদান, পুরস্কার ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। স্বাগত বক্তব্য দিতে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল প্রায় তিন মিনিটের পুরো বক্তব্যজুড়েই বারবার মন্ত্রীকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন।

 

পরে অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে বিষয়টিকে অতিরিক্ত তোষামোদ হিসেবে মন্তব্য করেন। আবার কেউ কেউ বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এমন সম্বোধন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি বাক্যের আগে বা পরে ‘স্যার’ শব্দটি ব্যবহার করেন ওই কর্মকর্তা। এতে বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তুর পাশাপাশি তার সম্বোধনের ধরনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

 

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সিলেট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত জামিল বলেন, তিন মিনিটের বক্তব্যে ‘স্যার’ শব্দটি বারবার ব্যবহার করা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষয় নয়। এটি তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস এবং সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি স্বাভাবিক প্রকাশ।

 

তিনি বলেন, “আমি সবসময় আমার সিনিয়র ও অগ্রজদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এভাবেই সম্বোধন করি। বক্তব্য দেওয়ার সময় অভ্যাসবশত ‘স্যার’ শব্দটি বেশি এসেছে। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”

 

সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, “কে কী বলছেন, সেটি তাদের বিষয়। তবে আমার উদ্দেশ্য ছিল কেবল বিনয়ের সঙ্গে একজন সিনিয়রকে সম্মান জানানো। বিষয়টি নিয়ে অযথা ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।”

 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভাষা, আনুষ্ঠানিক সম্বোধনের ধরন এবং পেশাগত আচরণ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ