{{ news.section.title }}
রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উধাও বিএসএফের পুশইন করা তিন যুবক
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী সীমান্তে টানা ১৭ দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা তিন যুবকের খোঁজ মিলছে না। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার পর নাগরিকত্ব জটিলতায় সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করা ওই তিন যুবক বুধবার (১ জুলাই) ভোর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে শূন্যরেখায় তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তারা কোথায় গেছেন বা কোনো পক্ষ তাদের সরিয়ে নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন যুবক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে তাদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এর আগে গত ১৪ জুন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে বিজিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি। পরে উভয় দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন তারা।
গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থান নেওয়া দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে চার দিন পর সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর আরও দুই যুবকও এক সপ্তাহের মধ্যে সেখান থেকে উধাও হয়ে যান। কিন্তু ইজলামারী সীমান্তে থাকা তিন যুবক টানা ১৭ দিন ধরে শূন্যরেখাতেই অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই তিন যুবককে খোলা আকাশের নিচে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যেত। সীমিত খাবার ও ন্যূনতম মানবিক সুবিধা নিয়েই তারা দিন কাটাচ্ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের এই অবস্থান স্থানীয়দের মাঝেও উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, তিন যুবক ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন। তবে বুধবার ভোর থেকে তাদের আর সেখানে দেখা যাচ্ছে না। তারা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।