বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খুলে দেওয়া হলো ৪৪ গেট

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খুলে দেওয়া হলো ৪৪ গেট
ছবির ক্যাপশান, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং উত্তরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

 

নদীভাঙনের ঝুঁকি এবং পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর রক্ষায় বাঁধের ওপর আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ফসলহানির শঙ্কা। আমন মৌসুমের প্রস্তুতি ও বিভিন্ন আবাদি জমি পানির নিচে চলে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

 

লালমনিরহাটেও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি। সদর, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে এক হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

 

পানিবন্দি মানুষেরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক এলাকায় রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে, বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের পরিবারগুলো।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার চরাঞ্চলের অন্তত আট হাজার পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেছেন, দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনো খাবার মজুত এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

এদিকে কুড়িগ্রামেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। কয়েকটি এলাকার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
 


সম্পর্কিত নিউজ