{{ news.section.title }}
পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারে উঠছে ১০ তলা ভবন, বরাদ্দ বুঝে পাওয়ার আগেই চাঁদা দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের
রাজধানীর পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজার মার্কেটের জায়গায় নির্মিত হচ্ছে ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন ‘বঙ্গবাজার পাইকারি নগর বিপণিবিতান’। বহুল প্রত্যাশিত এই প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে দোকান বরাদ্দ ও কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি মালিক সমিতির নামে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তৃতীয় কিস্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে দ্বিতীয় কিস্তির সময়ও ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল।
সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বঙ্গবাজারের চারটি মার্কেটের প্রায় পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে যায়। এতে হাজারো ব্যবসায়ী তাদের মূলধন ও জীবিকার উৎস হারান। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
প্রায় ১০৬ কাঠা জমির ওপর নির্মিতব্য এই কমপ্লেক্সে বেজমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং আটটি তলা থাকবে। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৪২টি দোকান রাখা হয়েছে। নতুন ভবনে আগের তুলনায় ৮১টি দোকান বেশি থাকবে। প্রতিটি দোকানের আয়তন ৮০ থেকে ১০০ বর্গফুটের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা। এ অর্থ দোকান মালিকদের কাছ থেকেই কিস্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার ৯৬১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন। প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে গড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হবে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তৃতীয় কিস্তির তিন লাখ টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই অর্থ মালিক সমিতির অফিসে জমা নেওয়া হচ্ছে এবং বিনিময়ে রসিদ দেওয়া হচ্ছে। রসিদে বেতন-ভাতা ও অফিস পরিচালনা ব্যয় বাবদ অর্থ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু তৃতীয় কিস্তির ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা হিসেবে প্রায় ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি অর্থ আদায় হতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এই অর্থ কোথায় ব্যয় হবে এবং কারা এর সুবিধাভোগী হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত আদায় করা অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে বণ্টন হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দায় স্বীকার করেননি।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আতাহার আলী খান বলেছেন, কিস্তির নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা নয়। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের গুলিস্তান ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল বাসেত বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সভাপতি মোজাম্মেল হক মজুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।