‘লাইট বন্ধ’ করে পুশইনের চেষ্টা, পরে ৯ জনকে ফের নিল বিএসএফ

‘লাইট বন্ধ’ করে পুশইনের চেষ্টা, পরে ৯ জনকে ফের নিল বিএসএফ
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করার পর অবশেষে রাতের আঁধারে ওই ৯ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।

বুধবার (২৪ জুন) রাত ১টার দিকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর ৪টার দিকে সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্তের ২৪৪/এমপি সীমান্ত পিলারের উত্তর পাতাড়ি এলাকা দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশু ছিল। সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ভারতের অভ্যন্তরে তাদের অবস্থান করানো হয়।

 

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন কৌশলে ওই ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

 

উত্তর পাতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, পুশইনের খবর পাওয়ার পর গ্রামের মানুষজন ঘটনাস্থলে চলে আসে। বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়রাও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তিনি বলেন, “বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তারা কোনোভাবেই ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেননি। সীমান্ত নিরাপত্তায় তাদের এমন ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”

 

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, খবর পাওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়। সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

 

তিনি বলেন, “রাত ১টার দিকে বিএসএফ সীমান্ত এলাকার লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই ৯ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোর হওয়ার পর ঘটনাস্থলে কাউকে আর দেখা যায়নি।”

 

বিজিবি কর্মকর্তা আরও জানান, সীমান্তের ওই এলাকায় বর্তমানে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে বিজিবির দৃঢ় অবস্থান এবং দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চললেও নওগাঁর আদাতলা সীমান্তে সর্বশেষ এই ঘটনাটি নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


সম্পর্কিত নিউজ