{{ news.section.title }}
ক্যালকুলেটরে গুনে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে সেই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে কমিশন বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সানজিদা ইয়াছমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। ওই ঘটনার একটি প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বাবুল চন্দ্র রায় ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের অঙ্ক হিসাব করছেন এবং ১৫ শতাংশ কমিশনের পরিমাণ নির্ধারণ করছেন। এক পর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।’
ভিডিওতে উপস্থিত এক ইউপি সদস্যকে ওই অঙ্ক কমানোর অনুরোধ করতেও দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘স্যার, ৩৮ হাজার টাকা একটু কম করে নেন। কাজেও তেমন লাভ হয়নি।’
ভিডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাবুল চন্দ্র রায়। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কে বা কারা ভিডিও ধারণ করেছে, তা তিনি জানেন না।
বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন প্রকল্পে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ নানা হিসাব করি। সেটিকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। হিসাব করতে গেলে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতেই হয়। এটাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।’
এদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা জানান, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।