{{ news.section.title }}
পুকুরে মিলল ৯ মাসের শিশুর মরদেহ, খুঁটিতে বেঁধে পুলিশে দেওয়া হলো মাকে
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ৯ মাস বয়সী এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার মা শ্রাবন্তীকে অভিযুক্ত করে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।
রোববার (২৮ জুন) ভোরে উপজেলার ভাবকী গোয়ালবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু শাওনের বয়স ছিল মাত্র ৯ মাস। অভিযুক্ত শ্রাবন্তী (২০) জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর মাঠপাড়া এলাকার মুন্তাজ আলীর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে হুমায়ুন আহমেদ ও তার স্ত্রী শ্রাবন্তী তাদের একমাত্র সন্তান শাওনকে নিয়ে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম ভাঙলে হুমায়ুন দেখতে পান, ঘরের দুটি দরজাই খোলা এবং বিছানায় তার স্ত্রী ও সন্তান কেউ নেই।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের নিয়ে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বেপারীপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান এক স্বজন। একই স্থানে শিশুর মা শ্রাবন্তীকেও পাওয়া যায়।
এরপর উত্তেজিত স্বজনরা শ্রাবন্তীকে ধরে এনে বাড়ির পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শ্রাবন্তীর দাবি, রাত সাড়ে ৩টার দিকে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘরের দরজায় কড়া নাড়লে তিনি দরজা খুলে দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশধারী ওই ব্যক্তি তার মুখে রুমাল চেপে ধরলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তার কিছুটা জ্ঞান ফেরে ভাবকী বাজার এলাকায়। সেখান থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে শিশুটির বাবা হুমায়ুন আহমেদ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, এর আগেও কয়েকবার তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীই শিশুটিকে হত্যা করেছেন।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্ত নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।