{{ news.section.title }}
আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, “আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো বুক চিতিয়ে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি।”
বুধবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, এই আলোর প্রজ্বালন কোনো একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। শহীদদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতিকে প্রতিদিন ধারণ করতে হবে এবং সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের সব জানালা খোলা রাখতে হবে, যাতে কোনো অগণতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী শক্তি আর কখনও ফিরে আসতে না পারে। শহীদদের স্মৃতি কেবল একটি দিন বা একটি মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের আত্মত্যাগ জাতিকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করবে।
বক্তব্যে আবেগঘন উপমা ব্যবহার করে রিজভী বলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে তপ্ত বুলেট বরণ করতে দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহাজাবের মায়ের চোখের জল দেখেছি। সেই অশ্রু প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও গভীর।”
তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে থাকবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদ পরাজিত হলেও তার বিভিন্ন উপাদান এখনও সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীত সরকারের সময় বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অপচয় ও লুটপাট হয়েছে।
রিজভী বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে যে ছাত্রসমাজ কখনও ঘুমিয়ে থাকে না। দেশের যে কোনো সংকট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী চেতনা নতুনভাবে বিকশিত হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদ কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ববোধ, আইন মেনে চলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলার মধ্যেও এর প্রকাশ ঘটে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শুধু বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি নয়, সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার মধ্যেও দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব ও জাতীয়তাবোধের প্রতিফলন দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালনের পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।