{{ news.section.title }}
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে রুশ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত এক রুশ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রিনসিটির ২১ নম্বর ভবনের একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম লাতিপভ ভিল। তিনি রাশিয়ার নাগরিক এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোজেনারগোঅ্যাটমে কর্মরত ছিলেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, রাতে নিজ কক্ষে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সহকর্মীরা। পরে বিষয়টি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর গ্রিনসিটির দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।
খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি কর্মী কাজ করছেন। প্রকল্প এলাকায় বিদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকা নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানেই রুশ নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা অবস্থান করেন। ফলে প্রকল্প এলাকায় কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু বা দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে থাকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর প্রকল্প এলাকায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃত্যুকে ঘিরে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক আলামতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই জানা যাবে লাতিপভ ভিলের মৃত্যু স্বাভাবিক, অসুস্থতাজনিত নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে।