৩০ জুন ডেডলাইন: ভ্যাট রিটার্ন না দিলে ফ্রিজ হবে ব্যাংক ব্যালেন্স

৩০ জুন ডেডলাইন: ভ্যাট রিটার্ন না দিলে ফ্রিজ হবে ব্যাংক ব্যালেন্স
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাগজে দাখিল করা ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সময়সীমা আবারও বাড়িয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করদাতারা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের পূর্বে জমা দেওয়া হার্ডকপি ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে এন্ট্রি করার সুযোগ পাবেন।

রোববার (৭ জুন) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটি বলেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন এন্ট্রির কাজ সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মে ২০২৬ পর্যন্ত ক্লোজিং ব্যালেন্স ‘ফ্রিজ’ বা অকার্যকর হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে ওই ব্যালেন্সের বিপরীতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সমন্বয় বা সমন্বয় সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না।

 

এনবিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ভ্যাট ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামে ই-ভ্যাট ব্যবস্থায় একটি বিশেষ সাব-মডিউল চালু করা হয়েছে। এই মডিউলের মাধ্যমে পূর্বে কাগজে দাখিল করা মাসিক ভ্যাট রিটার্নগুলো ধাপে ধাপে অনলাইন ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

 

রাজস্ব বোর্ডের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা তাদের পুরোনো হার্ডকপি রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করেননি। ফলে বিপুলসংখ্যক রিটার্ন এখনো ডিজিটাল রেকর্ডের বাইরে রয়েছে।

 

এ অবস্থায় এবং আগামী জুলাই থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে করদাতাদের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থায় শতভাগ রূপান্তর নিশ্চিত করতে করদাতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, আর সেই লক্ষ্যেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে ভ্যাট রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের আবেদন করতে চায়, তাদের জন্য সব পূর্ববর্তী রিটার্ন অনলাইনে সংরক্ষিত থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকলে বা পূর্ববর্তী রিটার্নগুলো ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি না করা থাকলে তারা রিফান্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে না।

 

এনবিআর মনে করছে, সব রিটার্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত হলে করদাতাদের তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, ভ্যাট প্রশাসনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।

 

রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব হার্ডকপি রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জটিলতা এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে যারা ক্লোজিং ব্যালেন্স সমন্বয় কিংবা ভ্যাট রিফান্ড সুবিধা নিতে চান, তাদের জন্য সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এনবিআর ধাপে ধাপে সব ভ্যাট-সংক্রান্ত কার্যক্রম অনলাইনে নিয়ে আসছে। আগামী জুলাই থেকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হওয়ার ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ই-ভ্যাট সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদ রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


সম্পর্কিত নিউজ