{{ news.section.title }}
নতুন অর্থবছরে সিগারেট ও তামাকপণ্যের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব
নতুন অর্থবছরে ২০২৬-২৭ বাজেটে তামাকপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো এবং কর কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রস্তাবনা দিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। তারা বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কেমন তামাক কর চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটি এই বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করে। তারা জানান, এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে তামাকপণ্যের ব্যবহার কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর মাহফুজ কবীর তামাক কর ও মূল্য বিষয়ক এই বাজেট প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। সংবাদ সম্মেলনে নিজের সমর্থন প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমানে সিগারেট ব্যবহারকারীর অধিকাংশই নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের ভোক্তা। এই দুই স্তর একত্রিত করে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা বিদ্যমান চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী ধূমপানে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত হবে।“
সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রজ্ঞা’র হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সিগারেটের তিনটি স্তর সংখ্যায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকার নতুন মূল্য কাঠামো-
একত্রিত নিম্ন ও মধ্যম স্তরঃ ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরঃ ১৫০ টাকা, প্রিমিয়াম স্তরঃ ২০০ টাকা বা তার বেশি এছাড়াও তিনি বর্তমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি প্রতি ১০ শলাকা প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক (Specific Tax) আরোপের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
আরো পড়ুন : রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সাত পাম্পে বাধ্যতামূলক হলো ‘ফুয়েল পাশ’
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক বলেন যে, “সিগারেট করকাঠামোয় প্রস্তাবিত সংষ্কার বাস্তবায়ন করা হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বধির্ত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপ মোকাবেলার সুযোগ তৈরি হবে।“ এছাড়া সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব উল্লেখ করেন, ‘তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলে তামাক কর ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।‘
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এসময় এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, “কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি হবে।“ তিনি যোগ করেন, “এতে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।“
সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটের পাশাপাশি বিড়ি ও জর্দা-গুলের দাম বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির দাম ৩০টাকা এবং ৫০ শতাংশ করহার আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি দশ গ্রাম জর্দা ৬০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতি ১০ গ্রাম গুলের দাম ৩০ টাকা ধরে এখানেও ৬০ শতাংশ কর আরোপের দাবী করা হয়েছে। এছাড়া সকল তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ‘আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং মিজান চৌধুরীসহ অন্যান্য তামাকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। এসময় বক্তারা তামাকের কর কাঠামোকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।