{{ news.section.title }}
পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ জানালেন সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) চালু না করতে পারার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে তার অন্যতম বড় আক্ষেপ হলো-বেসামরিক কর্মচারী, সামরিক সদস্য, পুলিশ ও শিক্ষকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করতে না পারা। তিনি জানান, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণেই উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, যা তার কাছে দুঃখজনক। শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত পে-কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। তবে সময় স্বল্পতার কারণে সেটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পরিকল্পনায় কোনো ঘাটতি ছিল না; বরং অর্থ মন্ত্রণালয় এ খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করেছিল।
সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে প্রচলিত দুর্নীতির ধারণা প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন। তার মতে, আমলাতন্ত্রে ১৮ মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি ভিন্ন চিত্র দেখেছেন। অধিকাংশ সরকারি কর্মীকে তিনি সৎ, দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী হিসেবেই পেয়েছেন। একজন সিনিয়র সচিবের বেতনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মোট বেতন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও বিভিন্ন ব্যয় বাদ দিয়ে হাতে থাকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় এক হাজার ডলারের সমান। ভারতের সমমানের কর্মকর্তাদের তুলনায় এই পরিমাণ অনেক কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শফিকুল আলম আরও বলেন, সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে, শুধু একটি সাধারণ জীবনযাপন বজায় রাখতে। যদিও সচিবরা গাড়ি ও চালকের সুবিধা পান, এর আর্থিক মূল্য মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো বলে তিনি জানান। বিদেশ সফরের ভাতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, বিদেশ ভ্রমণের জন্য যে ভাতা দেওয়া হয় তা খুবই সীমিত, এবং মোট কর্মীদের অল্প অংশই এমন সুযোগ পেয়ে থাকেন।
এ ছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের প্রতি তার আহ্বান, আগামী বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন যথাযথভাবে বৃদ্ধি করা হোক। সবশেষে তিনি বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা বিলাসিতা নয়, বরং বর্তমান সময়ের একটি জরুরি প্রয়োজন।