পরীক্ষা দিতে না পারাদের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

পরীক্ষা দিতে না পারাদের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার। এসব পরীক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা পরে দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা অন্যান্য অনিবার্য কারণে যেসব পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া একই বিষয়ের পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

 

তিনি বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তাই বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় কাউকে যাতে ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে।

 

তিনি বলেন, শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডই নয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার কিছু পরীক্ষার্থীও বন্যা, জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও অন্যান্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এসব শিক্ষার্থীর কথাও সরকার বিবেচনায় নিয়েছে।

 

এদিকে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়েও সংসদে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, পরীক্ষায় ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

 

তিনি আরও জানান, ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার পরীক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সম্পর্কিত নিউজ