{{ news.section.title }}
জাবিতে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি হিসেবে এসে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
আটক শিক্ষার্থীরা হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আলী কারিম এবং স্প্রিং-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী খন্দকার মেহরুন নেছা সুবাহ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থীর আমন্ত্রণে তারা ক্যাম্পাসে আসেন। পরে সুইমিংপুল এলাকায় অবস্থানকালে গাঁজা সেবনের অভিযোগে প্রশাসনের নজরে পড়েন তারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা তাদের হাতেনাতে আটক করেন।
আটকের পর তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। আদালত প্রত্যেককে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে মাদকসেবন, বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, শিক্ষার পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো ধরনের মাদকসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা আরও জোরদারের দাবি উঠেছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে আবাসিক হল, লেকপাড়, সুইমিংপুল এলাকা ও নিরিবিলি স্থানগুলোতে নিয়মিত টহল বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জায়গা নয়; এটি একটি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনও। তাই অতিথি বা বহিরাগত কেউ ক্যাম্পাসে এলে তাদের আচরণ ও অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমন্ত্রণকারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই ও অতিথি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ভাবমূর্তি রক্ষায় এমন পদক্ষেপ জরুরি বলেও তাদের মত। অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।