{{ news.section.title }}
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জবি ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।
বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্বর্য চত্বরে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার জবি শাখার নেতৃবৃন্দ দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করার এই বর্বরোচিত ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে তনু হত্যাকাণ্ড এবং আজ ১৫৪ দিন পার হয়ে গেলেও হাদি হত্যার আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায়, এই বিচারহীনতার সুযোগেই দেশে প্রতিনিয়ত এমন জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ সময় প্রশাসন ও আইন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা রামিসা ও হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে জকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রী সংস্থার নেত্রী সুখীমন খাতুন বলেন, "রামিসা হত্যাকাণ্ডটা গতকালের ঘটনা হলেও এটা কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের এ সমাজে ঘটে যাচ্ছে। প্রতিদিনের নিউজের পাতা উল্টালেই আমরা এ ধর্ষণ ও এ সম্পর্কিত ঘটনা দেখতে পাই। এটি বর্তমানে নর্মাল বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে, এটা এমনভাবে ছড়িয়েছে যে একটা ব্যাধির মতো। এর কোনো প্রতিকার নেই, এর কোনো প্রতিরোধ নেই।"
ধর্ষণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে তার কারণ এ দেশের বিচার ব্যবস্থা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা কে ধর্ষক তাকে খুঁজে বের করছি, চিনছি কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। যা এ ঘটনাগুলোকে প্রতিনিয়ত ই বাড়িয়ে তুলছে।"
তিনি আরও বলেন, "যখন কোনো এমন ঘটনা ঘটছে আমরা ফেসবুকে পোস্ট করে বা মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এরপর যখন অন্য একটা বিষয় আমাদের সামনে চলে আসছে তখন এ ঘটনা ভুলে যাচ্ছি যাতে আমাদের আল্টিমেটলি কোনো লাভ হচ্ছে না"
বিচার বিভাগকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, "আপনারা আর কতটা ধর্ষণ বা এমন কোনো কিছু ঘটলে সজাগ হবেন এবং এটি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
এসময়ে জবি ছাত্রীসংস্থার বিভিন্ন নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে এক সাত বছর বয়সী শিশু কন্যাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।