দুর্ঘটনায় দেরি হলেও থাকছে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

দুর্ঘটনায় দেরি হলেও থাকছে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ বছর পর এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। একই সঙ্গে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের সব কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি বডি ক্যামেরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন প্রস্তুতির আত্মবিশ্বাস রয়েছে, তেমনি নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে কিছুটা উদ্বেগও কাজ করছে।

 

কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বডি ক্যাম্প থাকলে আসলে কোন ধরনের সমস্যা হতে পারে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে, তো এর আগে আমাদের এ ধরনের কোনো অভিজ্ঞতা নাই। ফলে আসলেই এটা শিক্ষার্থী হিসেবে একটু অস্বস্তির আরকি। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি অতিরিক্ত সহজ কিংবা হচ্ছে অতিরিক্ত কঠিন কোনো প্রশ্ন হবে না। একটি সুন্দর একটি সাবলীল প্রশ্ন হবে।

 

এদিকে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও প্রশ্নের মান নির্ধারণে দেশের সব অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

 

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, একই ধরনের প্রশ্ন হয়েছে এটা ভালো উদ্যোগ। ঠিক আছে? কিন্তু শহরের ম্যাক্সিমাম স্কুল কলেজে যে ফ্যাসিলিটিগুলো আছে যে মাপের প্রশ্ন করা হয় এই একই ধরনের স্ট্যান্ডার্ডের প্রশ্ন যদি করা হয় অন্যান্য জায়গায় তাদের কি সেই ল্যাব আছে? তাদের কি সেই শিক্ষক ওই মানের ছিল? ওইটা কি তাদের পড়ানো হয়েছে? ওই টেস্টটা কি তাদের করানো হয়েছে? এখন এই জায়গাগুলো কিন্তু খেয়াল রাখা লাগবে যে প্রশ্ন করার আগে অর্থাৎ কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়।

 

অন্যদিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় ধরনের দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে শুধু ওই এলাকার নয়, সারা দেশের ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে একযোগে আয়োজন করা হবে।

 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, একটা ব্যক্তি কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ঘটিয়ে সে সময়মতো কেন্দ্রে যেতে পারেনি। সেটা লোকাল প্রশাসন যদি ইচ্ছা করে এবং যদি যৌক্তিক মনে করে তাহলে তাকে একটু স্পেস দিয়ে পরীক্ষাটা নিতে পারে। কোনো একটা বিভাগে বড় ধরনের ডিজাস্টার আসলে টোটাল পরীক্ষাটাকে পোস্টপন্ড করে এনাদার একটা ডেতে আবার সারা দেশে পরীক্ষার আয়োজন করা। এটাকে আমরা বেটার মনে করছি।

 

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজারেরও বেশি। সারা দেশে এ পরীক্ষার জন্য কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৯৭টি। শিক্ষা বোর্ডগুলোর আশা, সার্বিক প্রস্তুতি ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।


সম্পর্কিত নিউজ